Tuesday,
December 18 - December 24 , 2012 > Volume 13 > Issue 04



শীঘ্রই কিছু ষ্টেটে পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে ইমিগ্রেশন এজেন্ট’র দায়িত্ব দেয়া হতে পারে

  • PDF

শারমীন আক্তার: গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলেছে তারা এরিজোনা ষ্টেটকে তাদের সবচেয়ে বিতর্কিত আইনটি প্রয়োগ করার পক্ষে রায় দিতে প্রস্তুত। আইনটি হচ্ছে যে, স্থানীয় পুলিশ ডিপার্টমেন্ট উক্ত ষ্টেটের যে কোন সন্দেহভাজন নাগরিককে তার ইমিগ্রেশন স্টেটাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। সুপ্রিম কোর্ট এরিজোনার ইমিগ্রেশন বিরোধী আইনটির পক্ষে রায় দিলে আলাবামা, জর্জিয়া, ইন্ডিয়ানা, সাউথ ক্যারোলিনা, ইউথা সহ কয়েকটি ষ্টেটে একই আইন কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এরিজোনা ষ্টেটের আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট যদি তাদের পক্ষে রায় দেয় তবে এরিজোনা ষ্টেট পুলিশ ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগকারী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার অধিকার পাবে। বিগত কয়েক বছর যাবত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সীমানা দিয়ে বিদেশী নাগরিকদের বেআইনী অনুপ্রবেশের ব্যাপারটি নিয়ে বিভিন্ন ষ্টেট বেশ হতাশারা মধ্যে ছিল এবং তারা তাদের নিজস্ব পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে দায়িত্বও দিয়েছিল এই বেআইনী অনুপ্রবেশকারীদের মুখোমুখি হতে। তবে আগামী কয়েকমাসের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে জানা যাবে স্থানিয় পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে এই ব্যাপারে জড়িত করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কিনা।

এরিজোনার আইনের সবচেয়ে বিতর্কিত এই দিকটি ২০১০ সালের জুলাইয়ের শেষের দিকে কার্যকর হবার মাত্র কিছুদিন আগে একজন ফেডারেল জাজ কর্তৃক আটকে দেয়া হয়। কিন্তু এই বিধানটি অন্যান্য কিছু ষ্টেটকে একই আইন প্রনয়ন করতে উৎসাহিত করে। এদিকে এরিজোনা ষ্টেটের অন্যান্য ইমিগ্রেশন আইন এবং অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ২০০৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৭০ হাজার অবৈধ নাগরিক ষ্টেটটি ছেড়ে চলে গেছে।

ষ্টেটি বরাবরই বলে আসছে মেক্সিকোর সাথে এটির ৩৭০ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত অঞ্চল এবং দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম অবৈধ নাগরিকদের অনুপ্রবেশ স্থান হবার কারণে অবৈধ নাগরিকদের জন্য মোটা অংকের খরচ বহন করতে হয়। তবে ওবামা প্রশাসন আইনটির প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছে এই আইনের সাথে ইমিগ্রেশনের অন্যান্য আইন যেগুলো কিনা দেশের নিরাপত্তা, আইন প্রয়োগ, পররাষ্ট্র নীতি, দেশের আইনমান্যকারী জনগণের স্বার্থে ব্যবহৃত হয় সেগুলোর সাথে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করছে। সিভিল রাইটস্ গ্র“প প্রশাসনের সাথে একমত হয়ে বলেছে এরিজোনা এবং অন্যান্য ষ্টেটের এহেন মানসিকতা জাতিগত বিভেদ এবং সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি করছে।

এই ব্যাপারে কোর্টের সিদ্ধান্ত আগামী জুনের শেষের দিকে জানা যাবে। তবে এরিজোনার এটর্নী জেনারেল টম হর্ণ যার অফিস এই আইনটির পক্ষে কাজ করেছে আশা করছে কোর্টের রায় তাদের পক্ষে যাবে কারণ এই ষ্টেটের অধিকাংশ নিয়মকানুন ফেডারেল আইনেরই প্রতিচ্ছবি এবং রায় তাদের পক্ষে গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে ষ্টেটের অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা আরও কমে যাবে।

ইমিগ্রেশন রাইটস্ এডভোকেট যারা ধারণা করেছিলেন কোর্ট পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে এই ধরনের অধিকার প্রদানের বিপক্ষে রায় দিবে; বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেছে এই আইন প্রয়োগের ফলে দেশের অভিবাসীদের মনে ভীতির উদ্রেগ করবে এমনকি যেসব লাতিন আমেরিকান এদেশে বৈধভাবে বসবাস করছে তাদেরকেও তাদের ইমিগ্রেশন ষ্টেটাস সম্পর্কে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে।

সাধারণ নাগরিকদের রেকর্ড চেক করা এবং অবৈধ অভিবাসীদের কোন ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করার আইনটি পাশ করে এরিজোনা ষ্টেট কর্তৃপক্ষ তার ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলে ওবামা প্রশাসন গত সপ্তাহে যে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে, তা সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল এবং লিবারেল জাজরা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেনি।

ইমিগ্রেশন আইন বিশেষজ্ঞ এবং টেম্পি ইউনিভার্সিটির এক অধ্যাপক বলেছেন, এই আইনের ফলে পুলিশ কাউকে আটক করে  তার ইমিগ্রেশনের বৈধতা সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারে। তারা যদি কোন অবৈধ অভিবাসীকে পায় তবে তাদের ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে ডাকতে হবে তাকে গ্রেফতার করার জন্য। তবে ফেডারেল প্রতিনিধি যদি তাকে গ্রেফতার না করে তবে পুলিশও তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য থাকবে যদিনা তার বিরুদ্ধে অন্যকোন অপরাধের দায় থাকে।

Share this post

Add comment


You are here: শেষ পৃষ্ঠা শীঘ্রই কিছু ষ্টেটে পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে ইমিগ্রেশন এজেন্ট’র দায়িত্ব দেয়া হতে পারে