
শারমীন আক্তার : আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠিতব্য নিউইয়র্ক কংগ্রেসের নির্বাচনী এলাকা ৬ (কংগ্রেশনাল ডিষ্ট্রিক্ট ৬) এর ডেমোক্রেটিক প্রাইমারী ইলেকশনে দক্ষিণ এশিয়ান ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার জন্য ৩ জন কংগ্রেশনাল পদপার্থী ‘এ্যালাইয়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার’ (অঝঅঅখ এ্যাসাল) সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন। এসেম্বলী মেম্বার গ্রেইস মেং, এসেম্বলী মেম্বার রোরি লেন্সম্যান এবং সিটি কাউন্সিল মেম্বার এলিজাবেথ ক্রাউলি গত ২৩ এপ্রিল রবিবার এখন সময় অফিসে এ্যাসাল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কংগ্রেশনাল পদপার্থীগণ পৃথক পৃথকভাবে এই মতবিনিময় করেন।
এ্যাসাল এর প্রেসিডেন্ট এবং প্রতিষ্ঠাতা লেবার লিডার মাফ মিজবাহ উদ্দিন, এ্যাসাল’র কুইন্স চ্যাপ্টার এর প্রেসিডেন্ট এবং পলিটিক্যাল এ্যাকশন ডিরেক্টর এটর্নী আলী নাজমী, কুইন্স চ্যাপ্টার এর সেক্রেটারী এবং লোকাল ৬ এর পলিটিক্যাল অর্গানাইজিং ডিপার্টমেন্ট এর হিট এ্যাসেম্বলী মেম্বার ও নেটওয়ার্ক লিডার মোহাম্মদ তুহিন এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এই মতবিনিময় সভা। প্রার্থীত্রয় এ্যাসাল নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন এবং নির্বাচিত হলে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশীসহ দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের উন্নয়ন এবং ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন সমস্যা নিরসনের জন্য কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
উল্লেখ্য, কংগ্রেসের এই নির্বাচনী এলাকা ৬ এর ৩৭% ভোটার এশিয়ার বিভিন্ন দেশের। তন্মধ্যে ব্রায়ারউড, জ্যামাইকা হিল্স এবং জ্যমাইকার কিছু অংশে বিপুল পরিমাণে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ বসবাস করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে আসন্ন প্রাইমারী নির্বাচনে যে প্রার্থী এই ৩৭% ভোট নিতে পারবেন, তার বিজয়ের সম্ভাবনা অনেকটা নিশ্চিত। সেজন্য প্রার্থীরা ফ্লাশিং, ফ্রেশ মেডো, বে-সাইডসহ নির্দিষ্ট এই কয়েকটি এলাকার ভোটারদের সমর্থন পাবার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এ্যাসাল সংগঠনটি আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ার প্রার্থী তৈরি করা এবং এদেশের মূলধারার রাজনীতিতে দক্ষিণ এশিয়দের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করার জন্য বেশ কয়েক বছর যাবত আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। নতুনভাবে গঠিত এসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট ২৬ তৈরি করার জন্য এ্যাসাল’র নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। উল্লেখ্য, ডিষ্ট্রিক্ট ২৬ এর ৩৬% জনগণ দক্ষিণ এশিয়। এসব কারণে, আসন্ন নির্বাচনে এ্যাসাল’র সমর্থন প্রার্থীদের কাছে গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হচ্ছে। এ্যাসাল এর নেতৃবৃন্দরা শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থীকে সমর্থন প্রদান করবেন তার উপর ভোট গ্রহণ করা হলেও তার ফলাফল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গ্রেইস মেং কে সমর্থন প্রদান করার পক্ষে অধিকাংশরা সমর্থন দিয়েছেন। এদিকে গ্রেইস মেং ইতিমধ্যে বড় বড় ডেমোক্রেট নেতাদের সমর্থন পেয়েছেন। তাদের মধ্যে সেনেটর ক্রিষ্টিন জিলিব্রেন্ড, কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলী, সিটি কম্পট্রোলার জন ল্যু অন্যতম। এছাড়াও লোকাল ৬ ইউনিয়নসহ অন্যান্য কিছু সংগঠনও তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। এ্যাসাল এর প্রেসিডেন্ট জনাব মাফ মিসবাহ্ বলেছেন, “এদেশে দক্ষিণ এশিয়দের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে। এজন্য প্রথমেই আমাদের এমন একজন প্রার্থীকে সমর্থন প্রদান করা উচিত যে নিউইয়র্কে বসবাসরত দক্ষিণ এশিয়দের স্বার্থে কাজ করে যাবে। তবে এই লক্ষ্যটি সফল করার জন্য প্রত্যেকটি দক্ষিণ এশিয় আমেরিকান নাগরিককে ভোটার রেজিষ্ট্রেশন করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আমাদের অধিকার আদায়ের প্রথম ধাপ হিসেবে প্রাইমারি ইলেকশন হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন সময় আমেরিকার মূল ধারা রাজনীতিতে নিজেদের যোগ্য করে উপস্থাপন করে একটি শক্ত ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করা”।







