ঢাকা অফিস : বিএনপির নিখোঁজ সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর বিষয়ে সরকার সব জানে বলে মনে করছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। একই সঙ্গে সরকার চাইলেই ইলিয়াস আলীকে নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। মঙ্গলবার দেশব্যাপী হরতালের তৃতীয় দিনে নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় বিএনপি অফিস থেকে বেরিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্তও বাতিল করেছে বঙ্গবীর।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘ইলিয়াস আলীর বিষয়ে সরকার সব জানে। তাকে লুকিয়ে রেখে দেশব্যাপী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কারো কাম্য নয়। যে সরকার মানুষের উপকারে আসে না, জনগণের কষ্ট উপলদ্ধি করে না, তাদের জনগণ কিভাবে ভালোবাসবে? ’
তিনি বলেন, ‘আমি হরতাল সমর্থন করি না। আবার হরতালের বিপক্ষেও আমি নই। কিন্তু বাড়ির সামনে (বিএনপি কার্যালয়) আসা অতিথিদের আজ পুলিশ যেভাবে ধরে নিয়ে গেলো তা কোন সভ্য সরকারের কাজ হতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘এ হরতাল কতোদিন চলবে জানি না। সরকারের কানে পানি যাচ্ছে না। ইচ্ছা করলে তারা এ সমস্যার সমাধান করতেই পারে।’
বঙ্গবীর বলেন, ‘গাড়িতে মানুষ পুড়িয়ে মারা হয়েছে। ওই গাড়িতে আগুন বিএনপি দিয়েছে না সাবোটাজ করা হয়েছে তা খুঁজে বের করা উচিত। আমি এ মৃত্যুর প্রতিবাদ করি।’
তিনি বলেন, ‘হরতালে আমার শ্রদ্ধা আছে। টাঙ্গাইল থেকে এসেছি, হরতাল ভঙ্গ করিনি। আজও হেঁটে বিএনপি অফিসে এসেছি।’
বিএনপি অফিস থেকে নেমেই সামনের রাস্তায় গামছা বিছিয়ে শুয়ে পড়েছেন কাদের সিদ্দিকীও তার কয়েকজন কর্মী।
মূলত বিএনপি কার্যালয়ে ঢোকার মুখে তার সঙ্গে আসা ১০ নেতা-কর্মীকে আটকের প্রতিবাদেই রাস্তায় শুয়ে পড়েন বঙ্গবীর। একই সঙ্গে বিএনপি কার্যালয়ের গেট থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া নেতা-কর্মীদের গেটেই ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ সময় তিনি চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট থেকে উত্তোরণের আলোচনায় আওয়ামী লীগের অফিসে যাওয়ার সিদ্ধান্তও বাতিল ঘোষণা করেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাকে গ্রেফতার করতে পারেন। মারতে পারেন। কিন্তু আমার নেতা-কর্মীদের এখানে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাবো না।’
তিনি বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনায় আমি তাদের ওপর ক্ষুব্ধ। এখন আর তাদের কার্যালয়ে যাবো না।’
তিনি বলেন, ‘ইলিয়াস আলীকে কেন্দ্র করেই গত তিন দিন ধরে এ হরতাল। আমি তার স্ত্রীর বাসায় গিয়েছি। তার স্ত্রী ও সন্তানের দিকে তাকিয়ে অস্থির হয়ে পড়েছি। তাই জনদুর্ভোগ সত্ত্বেও আমার জন্য, ১৬ কোটি মানুষের জন্য হরতালে সমর্থন দিয়েছি।’
এ সময় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতিক বলেন, ‘এ সরকার অন্ধ হয়ে গেছে। সবাইকেই এখন শত্রু মনে করছে।’









