রুনির মায়ের জবানবন্দি রেকর্ড হতাশ সাগরের মা ও বোন
ঢাকা অফিস: ময়না তদন্তের সময় ভিসেরা নমুনা ও আঙুলের ছাপ সংরক্ষন না করায় সাগর-রুনির লাশ কবর থেকে পুনরায় তুলতে হতে পারে। ঢাকা মেডিক্যালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা বলেছেন, পুলিশ শুধুমাত্র মৃত্যুর কারন এবং খুনের আগে রুনির সভ্রমহানী হয়েছিল কী-না তা জানতে চাওয়া হয়। তবে পুলিশ ভিসেরা প্রসেসিং এর জন্য নমুনা রাখতে বলেনি। যে কারনে আর কোন কিছুরই নমুনা কিংবা আঙুলের ছাপ রাখা হয়নি। শনিবার বিকালে ঢাকা মেডিক্যালের ফনেরসিক বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. মেখলেসুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ শুধুমাত্র মৃত্যুর কারন এবং সভ্রমহানি হয়েছে কী-না সেই কারন জানতে চাওয়ায় অন্য কোন কিছুর নমুনা রাখা হয়নি।
এছাড়া ময়না তদন্ত রিপোর্টে ভিসেরার ঘরটি খালি না রেখে মৃত্যুর কারন উল্লেখ করে চূড়ান্ত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে পুলিশের কাছে।’ ময়না তদন্তকারি চিকিৎসক ডা. সোহেল মাহমুদও শনিবার দুপুরে জানান, ‘পুলিশের চাহিদার বাইরে অন্য কিছু করা হয়নি। বিষয়টি স্পর্শকাতর ছিলো বলেই পুলিশের চাহিদাপত্র অনুসরণ করা হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘দুইজনের মৃত্যু রহস্য ময়না তদন্তে এবং বলাৎকারের বিষয়টি মাইক্রো বায়োলজিক্যাল টেষ্ট রিপোর্টেই নিশ্চিত হওয়া গেছে।’ দুইজন চিকিৎসকই এক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব সঠিক ছিলো বলে দাবী করেছেন। তবে তারা একথাও স্বীকার করেছেন যে, অনেক সময় মৃত্যু রহস্য সম্পর্কে সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট ময়না তদন্তকারি চিকিৎসকই নিজ দায়িত্বে ভিসেরার নমুনা সংগ্রহে রাখেন। সাগর-রুনির ক্ষেত্রে ময়না তদন্তেই মৃত্যুর কারন নির্নিত হওয়ায় ভিসেরা প্রসেসের নমুনা রাখার প্রয়োজন মনে করা হয়নি। ওদিকে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিসেরা প্রসেস রিপোর্ট এবং নিহতদের আঙুলের ছাপ না পাওয়ায় অনেক ক্লু সম্পর্কে অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে। তবে দ্রুত এই চাঞ্চল্যকর হত্যারহস্য উদ্ঘাটনে নিহতদের আঙুলের ছাপ ছাড়াও ভিসেরা প্রসেসিং রিপোর্টের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও রাজাবাজারের ফ্যাট থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন আলামতের নমুনা থেকে সংগৃহীত সব ছাপই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তদন্তকারিরা আরো বেশী সমস্যায় পড়েছেন। সংগৃহীত নমুনায় অসংখ্য লোকের হাতাহাতির ছাপ রয়েছে। তদন্তকারিদের ধারনা ঘটনার পর পর পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নমুনা সংগ্রহের আগে অনেকেই ঘটনাস্থলের মালামালে হাত লাগানোয় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। তদন্তকারিরা এখন ঘটনাস্থল থেকে পুনরায় শুকিয়ে যাওয়া রক্ত, দেয়ালে পায়ের ও জুতার ছাপ, সাগরের হাত বাধার কাপড় এবং অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য তৎপরতা শুরু করেছেন। পাশাপাশি এতে যদি যথেষ্ট ফল না পাওয়া যায় তাহলে সাগর-রুনির লাশ পুনরায় কবর থেকে তুলে ময়না তদন্তসহ আঙুলের ছাপ ও ভিসেরা প্রসেসের নমুনা সংগ্রহের কোন বিকল্প থাকবে না।
শনিবার গোয়েন্দ পুলিশের তদন্তকারিরা পুনরায় রাজাবাজারস্থ নিহত সাংবাদিক দম্পতির ফ্যাটে যায়। তারা সেখান থেকে কিছু আলামত সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন বলে জানা যায়। তবে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে গতকালও এই হত্যা রহস্য সম্পর্কে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া একটি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা শনিবার এই হত্যা রহস্যর কিনারা খুজতে ডিবি র্যাব তেজগাঁও থানা ছাড়াও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে। তারা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য কাজ করছে বলে একাধিক সূত্র জানায়।
সাগর সরওয়ারের মা শনিবারও বলেছেন, “আমার ছেলে সাগর ও পুত্রবধু মেহেরুন রুনি খুন মামলার তদন্ত পুলিশ দীর্ঘায়িত করছে। এতে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে মামলাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্ট করা হচ্ছে। সাগরের এতিম শিশু মেঘকে নিয়েও আমরা চিন্তিত। সে বাসায় মিলাদ অনুষ্ঠানের দিন এসেছিলো। সে তার নানীর সঙ্গে যেতে চায়নি। আমি যেভাবে আমার মেয়ের সন্তানকে কাছে রাখছি। মেঘের নানীও তাকে সেভাবেই রাখবে বলে আশা করছি। শনিবার সকালে পুরনো ঢাকার ৬ নম্বর নবাবপুর রোডস্থ বাসভবনে নিহত সাগরের মা সাংবাদিকদের পুনরায় একথা বলেছেন।
সাগরের ছোট বোন মঞ্জুয়ারা পারভীন বলেন, তার ভাই ও ভাবী খুনের আট দিন পার হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ ঘটনার দিন ও পরদিন বলা হয়েছে খুনিরা পুলিশের নজরদারীতে রয়েছে এবং শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে। কিন্তু পুলিশ এখনো গ্রেফতার করেনি। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসামীদের গ্রেফতারে সময়সীমা বেধে দেওয়ার পরও অনেক সময় পার হয়ে গেছে। এতেই আমরা শংকিত, আমরা ভাই ভাবীর খুনের বিচার পাবো কি?
এদিকে, পুলিশ শনিবার সকালে রুনির মাকে পুলিশের গাড়ি যোগে রাজাবাজারের বাসা থেকে জবানবন্দি গ্রহনের জন্য নিয়ে গেছেন বলে তাদের বাড়ির দারোয়ান জানিয়েছেন। তবে তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, তা গতরাতে এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত জানা যায়নি। আর পুলিশের পক্ষ থেকে শনিবারও এই ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। জানানো হয়নি চাঞ্চল্যকর সাগর-রুনি খুনের কী অগ্রগতি হয়েছে।









