Tuesday,
December 18 - December 24 , 2012 > Volume 13 > Issue 04



কবিতা

  • PDF

আট ফাগুনের ভোরে

সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী

আমার প্রিয় স্বদেশ

ঝলমল বর্ণালী আভার

এক অপরূপ ছবি

 

পাখির কলকাকলী আর লাজুক গ্রাম্য বধূ

বালিকার উদাম চঞ্চল

খেলার স্বর্ণালী দুপুর

রাখালের মিষ্টি বাঁশির সুর

অ৭াকাবাঁকা মেঠো পথ

আধফোটা শাপলার বিল

মায়ের ভাষায় বাউলের গান...

এসবে একদা মাতোয়ারা হতাম।

 

স্বদেশী শব্দে অনুরক্ত আমি

এক ভাষার প্রেমিক

আজো ঐসব স্মৃতি জাগ্রত।

হৃদয়ে প্রিয় স্বদেশ তাই

একগুচ্ছ ফুলেল সুবাস

 

ফাগুনের গভীর রাতে

যখন হাজার তারা ভাসে

শীতের আমেজ নিয়ে

রাতভর জেগে থাকতে ইচ্ছে হয়

 

ভালবাসার রঙিন স্বপ্নে

আট ফাগুনের ভোরে

একগুচ্ছ ফুল নিয়ে নগ্ন পায়ে

হেঁটে যাই শহীদ মিনারে

 

মাতৃভাষার এই শুভক্ষণে

বিশ্বের অগণিত মানুষের সাথে

সমস্বরে উচ্চারণ করতে চাই

বাংলা ভাষা অমর হোক

প্রাণে মননের চর্চার

অনবদ্য বর্ণমালার

অক্ষরে যেন চির ভাস্বর হয়।

Ñজ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক

 

 

বসন্ত সাজ এই ফাল্গুনে

ডা. সুরাইয়া হেলেন

খোঁপায় পরেছি হলুদ গাঁদার ফুল,

কর্ণে দুলিয়েছি কিংশুকের দুল।

পরেছি পলাশ রঙা শাড়ি,

হাতে আমার কৃষ্ণচূড়ার চুরি।

গলায় গোধূলী সূর্য হার,

অশোকের নূপুর পায়ে আমার।

কপালে পরেছি শিমুল পাঁপড়ি টিপ,

হাতে ধরেছি ফাল্গুনি সন্ধ্যাতারার দীপ।

বহ্নি হয়ে পোড়াতে এসেছি,

ফাল্গুনি আমি,

বলতো বসন্ত, কেমন সেজেছি?

 

 

বৃষ্টির গান

সুনির্মল কান্তি চক্রবর্তী

বৃষ্টির মধ্যে শুধু তুমি আর আমি

উত্তপ্ত তাপে এবং বৃষ্টির ছোয়ায় শুধুই

দু’জনে ভিজছি, শুধুইÑআষাঢ়স্য প্রথম দিবসে

মাঘী পূর্ণিমার রাত্রে!

 

এমনি বৃষ্টির দিনে মুছে যাক শুধুই জনের নাম

তাহলে বলো : কি তবে হবে পরিণাম?

এ দৃশ্যটা শুধুই ভাবছি বসে;

অপলক অবিরাম শুধুই বৃষ্টির করি জয়গান ॥

 

চরো ঘুড়ে আসি বৃষ্টির বিছানো পথে

আঁকাবাঁকা পথ ধরে কিলু গোয়ারার পথ ধরে

বৃষ্টি ভেজা পথে; অথবা তেপান্তরের পারে

বৃষ্টিতে তোমাকে ভেজাতে হবে

আসুক বজ্র বৃষ্টি হউক আরো জোড়ো ॥

 

বৃষ্টির শিকড়ে শিকড়ে বৃষ্টি শুধুই শিহরণ জাগায়

এটা একটা বর্ষার মাঙ্গলিক দিক

পশু, পাখি, গাছাপালা; উষর মৃত্তিকাকে করে শীতল

বৃষ্টি শুধুই পারে সব ধুয়ে মুছে দিতে

মানুষের দৈনন্দিন পাপ ও তাপ এবং মানুষের মনস্তাপ ॥

 

 

 

আকাশ পানে হাত বাড়াও

সোহেল হামিদ

দুষ্ট লোকের শাসন দেখে

কষ্ট লাগে খুবই

কোটিপতির তেজটা বেশি

হয় কেন সে লোভী?

 

দৃষ্টি যদি মিষ্টি না হয়

কষ্ট তাতেও লাগে

শত্রু যদি সৃষ্টি করো

নিন্দাটুকুই জাগে।

 

বৃষ্টি যেন দৃষ্টি কাড়ে

অশ্রু দু’চোখ বেয়ে,

সৃষ্টি খোদার অবাক আমি

আকাশ পানে চেয়ে

 

খ.

শিষ্ট লোকের শাসন চাই

দুষ্ট লোককে তাড়িয়ে দাও,

শত্রুতা নয় বন্ধু চাই

আকাশ পানে হাত বাড়াও ॥

 

 

 

বর্ণমালা

জাহাঙ্গীর আলম সরকার

অস¤পূর্ণ কবিতার মতোই

বর্ণমালা তুমি,

শব্দ ভেঙ্গে ভেসে যাবে তড়িৎ ¯্রােতে।

 

দেশ, মহাদেশ দূর বহুদূরে

মানুষের মুখে মুখে।

 

বর্ণমালা সাজিয়ে যথার্থতা ভাসিয়ে দিই

আহা ঢেউ কি নীল!

আকাশে উড়ে শংঙ্খচিল।

 

একুশের চেতনায় বর্ণমালা সাজিয়ে গ্রন্থমেলা

বাংলা একাডেমির মাঠে

কবি ও কবিতার মিলন-মেলা।

 

শব্দ ভেঙ্গে বর্ণমালা পৌছে যায়

সবার কানে কানে।

 

সে সকল কথা ভাবতে ভাবতে

গন্তব্যে অবশেষে।

 

আকাশ এখানে শেষ

সবুজ মাঠে রক্তিম আভা।

 

রিক্সাওয়ালা নিস্পৃহ মুখে

অবসন্ন চোখে চোখ রেখে

বর্ণমালা সাজিয়ে বলে

আরও ৫ টাকা...

 

অস¤পূর্ণ কবিতার মতোই

বর্ণমালা ভেঙ্গে দিচ্ছে সকল নির্জনতা।

 

 

 

একনায়ক

ফয়েজ কবির

ভালবাসা কি গনতান্ত্রিক নাকি সামরিক অধিকার?

পৃথিবীর তাবৎ ইতিহাস যদি কেউ পড়ে

তাহলে ভালবাসার সাথে যুদ্ধের জোড়াটাই সে প্রকট দেখবে

কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রেক্ষিতে কেউ কাউকে ভালবাসেনা।

 

ভালবাসাটা পদার্থ বিজ্ঞানের বহির্মাত্রায় ঈশ্বরের হেঁয়ালি

তা না হলে ধুলোবালি শীত উত্তাপের অই মঙ্গল গ্রহটাই

পৃথিবী থেকে রূপসী হত।

 

আর এটাতো স্পষ্ট ভালবাসা তৈরীতে ঈশ্বরও সামরিক হয়েছেন।

ইট পাথড় লোহা লক্কড়ের বদলে

আমাদের বাঁধলেন নাইট্রোজেন হাইড্রোজেন ফসফরাসের শেকলে

ছুঁড়ে দিলেন পারমুটেশন কম্বিনেশনের অংকে সীমা ছাড়িয়ে অসীমে

জিজ্ঞেস করলেন না এই জৈব রাসায়নিকতায় আমাদের সম্মতি আছে কি নেই।

এখন আমরা বর্নচোরা, নিয়ম ভাঙ্গা অনিয়মে সিদ্ধহস্ত

যুদ্ধে যাই কখনো চোরাগুপ্তা গেরিলা হয়ে

কখনো বা আলেকজান্ডার আকবরের মত

বস্তুতঃ ভালবাসায় আমরা ঈশ্বরের কারণেই সামরিক, গনতান্ত্রিক নই।

 

 

 

অপ্সরীদের চুলের গন্ধ

সৈয়দ শামসুল হক

অনেকগুলো দিনের জমা বিষাদ আর এই বিবাদ,

এর ভেতরেই হঠাৎ এক মধ্যরাতের চাঁদ!

মাথার চুল উপড়ে তুলে রোপণ করে দিলোÑ

যেখানে এক অপ্সরীর গোপন বাসা ছিলো।

বাসা তো নয় কোটর তাকে বলাই ভালো বুঝিÑ

কোটরটিকে পূর্ণিমাতে হƒদয় খুঁড়ে খুঁজি।

খুঁজতে খুঁজতে সারাটা রাত, যখন হলো ভোর

তখন কাঁধে উড়ে এলো ধূসর চাদর।

জীবন ছিলো ধূসরতায়, কিন্তু এখন তাতে

গোলাপি রঙ ফুটকি ফুটে উঠলো প্রভাতে।

সূর্য বুঝি উঠেছে ফের, ভালোবাসবারÑ

মধ্যরাতের অন্ধকারে যতই অস্তপার

এখন ফিরে তার বাড়িতে আবার ফিরলামÑ

অপ্সরীদের চুলের গন্ধ হাওয়ায় উদ্দাম।

 

 

 

কোনো কোনোদিন রাতে

ফজল শাহাবুদ্দীন

কোনো কোনোদিন রাতে বাতাসেরা

স্তব্ধ হয়ে যায়। আকাশে আকাশে নক্ষত্রেরা

নিশ্চল ছবির মতো বেঁচে থাকে।

মনে হয় সবকিছু ম’রে গেছে। কে যেন আমাকে

ভাসায় ডোবায় দূরে টেনে নিয়ে যায়।

হাওয়ায় হাওয়ায়

কী এক সঙ্গীত শুধু বেজে ওঠে প্রহরে প্রহরে

আÍার ভেতরে।

ইচ্ছে হয় মরে যাই মিশে যাই স্তব্ধ বাতাসের সঙ্গে।

স্তব্ধতা আসুক নেমে রক্তমাংসে অঙ্গে অঙ্গে।

কোনো কোনোদিন রাতে বাতাসেরা স্তব্ধ হয়।

আমি ম’রে যেতে চাই।

পৃথিবীর অন্ধকারে ছিন্নভিন্ন প্রবল বিস্ময়।

 

 

 

ঘনিষ্ঠ উচ্চারণ

ফজল শাহাবুদ্দীন

মধ্যাহ্নের কাছে সায়াহ্নের কাছে রাত্রির শরীরে

বৃক্ষের সবুজে পক্ষীর উড়ালে জলে নদীতীরে

আলোতে আঁধারে

আদি থেকে অন্তে বারে বারে

একটি ঘনিষ্ঠ উচ্চারণ

যেনো কোনো বিষণœ নির্জন

একা একা বাঁশি

রক্ত জুড়ে মাংস জুড়ে আÍা জুড়ে বাজে

বলে ভালোবাসি

বলে ভালোবাসা আছে তাই বেঁচে আছি

আছে কাছাকাছি

অন্তর্গত সব হাহাকার

আছে জীবনে ধ্বনি প্রতিধ্বনি এবং সংহার।

Share this post

Add comment




You are here: ফিচার সাহিত্য কবিতা