মোস্তাফা জব্বার
যন্ত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহারের ইতিহাস খুব প্রাচীন নয়। সকল ভাষার মতোই আমরা বাংলা ভাষার চর্চাতেও হাতের লেখাকে অনেকদিন লালন করেছি। বাংলা পুঁথি সাহিত্য বস্তুত হাতে লেখা ভাষাচর্চার এক অনন্য নিদর্শন। বাংলা ক্যালিওগ্রাফির উজ্জ্বল তারকা এই পুঁথিগুলো। তবে বাংলা হরফের সঙ্গে যন্ত্রের দেখা হয় অনেক পরে। ১৪৫৪ সালে জার্মানিতে গুটেনবার্গ মুদ্রণ যন্ত্র ব্যবহার করা শুরু করেন। রোমান হরফে ছাপার যুগ সেদিন থেকে শুরু হয়। সেই মুদ্রণ যন্ত্র বাংলায় তার প্রথম ছাপ ফেলে ১৭৭৮ সালে। হলহ্যাডের ব্যাকরণ বই ছাপা দিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। অন্যদিকে উনিশ শতকের মাঝামাঝিতেই রেমিংটন বাংলা টাইপরাইটার বাজারে আসে। লন্ডনের জনমত পত্রিকা ১৯৬৯ সালে সেই যন্ত্রটি ব্যবহার করে প্রকাশিত হতো। কিন্তু বাংলাদেশে টাইপরাইটার যন্ত্র তেমনভাবে বিকশিত হয়নি। পাকিস্তান আমলে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পেলেও প্রশাসনে বাংলার ব্যবহার ছিল না। ইংরেজি ছিল প্রধানত প্রশাসনিক কাজের হাতিয়ার। তবে পাকিস্তান সরকারই প্রথম অনুভব করে যে একটি বাংলা টাইপরাইটার আমাদের প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনীয়তা থেকে কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। শহীদ মুনীর চৌধুরী সেই প্রকল্পের আওতায় ১৯৬৫ সালে মুনীর টাইপরাইটার কিবোর্ড আবিষ্কার করেন। তবে সেটি কার্যকর হয় ১৯৭২ সালে।
শহীদ মুনীর চৌধুরী ছিলেন আমার শিক্ষক। তাকে তার বিখ্যাত কবর নাটকের জন্য অমর বলা হবে, না বাংলা টাইপরাইটার কিবোর্ড আবিষ্কারের জন্য অমর মনে করা হবে; সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্কুলের পাঠ্যবইতে রক্তাক্ত প্রান্তর পাঠ করা আমার জন্য নিশ্চিত করে জবাব দেয়া সত্যি সত্যি কঠিন হবে। জীবনের ২৪ বছর বাংলা হরফ ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সুবাদে আমি বাংলা হরফের জন্য তার টাইপরাইটার কিবোর্ডের সমতুল্য কোনো উদ্ভাবনের কথা স্মরণ করতে পারি না। বাঙালি অতীতেও অনেক আবিষ্কার করেছে এবং ভবিষ্যতেও আরো অনেক আবিষ্কার করবে। কিন্তু তিনি মুনীর টাইপরাইটার কিবোর্ড যে সময়ের যে প্রেক্ষিতে আবিষ্কার করেন তার মূল্য অন্য যে কোনো আবিষ্কারের চাইতে অনেক বেশি। অন্যদিকে আমাদের এটিও মনে রাখতে হবে যে এই মানুষটিই কবর নাটক লিখেছিলেন। সেই একটি নাটক বাঙালি জাতির স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াইকে জনগণের সামনে যেমনটি উপস্থাপন করেছে তার কোনো তুলনা নেই।
১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর জন্ম নেয়া ও ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ (বা তারপরের কোনোদিন) আল শামস-আল বদরদের হাতে নিহত শহীদ মুনীর চৌধুরী আমার কাছে একজন প-িত, অসাধারণ একজন শিক্ষক এবং জ্ঞানী মানুষ ছিলেন। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং ভাষাতত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী মুনীর চৌধুরীর কাছে শিক্ষাগ্রহণকারী হিসেবে আমি নিজেকে একদিকে ভাগ্যবান মনে করছি অন্যদিকে মনে করছি স্বাধীন বাংলাদেশ অবশ্যই তার মুনীর টাইপরাইটার কিবোর্ডের জন্যই সবচেয়ে বেশি ঋণী। বাস্তব অবস্থা হলো, একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশটি স্বাধীন করার পর যদি আমরা ১৯৬৫ সালে আবিষ্কৃত মুনীর কিবোর্ড দিয়ে অপটিমা মুনীর টাইপরাইটার বানাতে না পারতাম তবে হয়তো আজ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ভাষা বাংলা হতো নাÑ ইংরেজিই থেকে যেতো। অন্যদিকে হয়তো আমরা বাংলা লেখার জন্য রোমান হরফই ব্যবহার করতাম।
আমি আগেই বলেছি ১৭৭৮ সালে বাংলা হরফ প্রথম যন্ত্রের মুখ দেখে। এরপর রেমিংটন কোম্পানি বাংলা টাইপরাইটার বানায়। মুদ্রণ যন্ত্রের ক্ষেত্রেও বিবর্তন ঘটে। লাইনো-মনো কাস্টিং মেশিন জন্ম নেয়। এরপরই বাংলাদেশের জন্য অপটিমা মুনীর জন্ম হয়। এখানে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে সিসার হরফের ষাট হোক, মনোটাইপ-লাইনোটাইপের কাস্টিং মেশিন হোক বা রেমিংটন টাইপরাইটার হোক; সবকিছুতেই রোমান হরফের অনুসরণে বাংলা হরফকে স্থাপন করা হয়েছে। এর মানে হলো ইংরেজি কে বোতামে ক, ইংরেজি গ বোতামে গ ইত্যাদিভাবে সাজানো হয়েছে। আমরা দেখেছি যে এমনকি মুনীর টাইপরাইটারের জন্মের পরও ফটোটাইপ সেটার এবং আরো অনেক কম্পিউটার কিবোর্ড ফনেটিক নাম দিয়ে সেই ইংরেজির অনুসরণ করা হয়েছে। আমি ভারতীয় অন্য ভাষাসমূহ এবং এশীয় আরো ভাষার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম চালু করতে দেখেছি। যেহেতু রোমান হরফের অধিবাসীরা আমাদের জন্য যন্ত্র তৈরি করেছে সেহেতু তারা তাদের হরফের মতো করে বাংলা বা অন্য ভাষার ওপর তাদের হরফ চাপিয়ে দিয়ে তাকে ফনেটিক বলার চেষ্টা করেছে। এমনকি আমাদের ভাষাভাষী মানুষের কাছেও এটি একটি প্রবণতা। তারা ইংরেজি হরফকেই মূলমন্ত্র বিবেচনা করে সেই হরফের কিবোর্ডের আলোকে বাংলাকে সাজিয়ে নিয়ে তাকে বলে ফনেটিক। কিন্তু ফনেটিক অর্থ হচ্ছে ধ্বনিতাত্ত্বিক। রোমান হরফের সঙ্গে মিল রেখে বাংলা লেখা হলে তাকে ফনেটিক বলা হবে কোন সূত্রে সেটি আমি জানি না। এমনকি আমি যদি রোমান হরফ দিয়ে বাংলা শব্দ লিখি তাকে কি ফনেটিক বলা যাবে? মুনীর চৌধুরী কখনো ভাবেননি যে রোমান হরফ আর তার সঙ্গে মিল রাখা বাংলা হরফ ফনেটিক হতে পারে। তার সামনে কেবল কোয়ার্টি কিবোর্ডের দুটি স্তর এবং মোট ৪৭টি বোতামে বর্ণ স্থাপন করার সীমাবদ্ধতা ছিল। তিনি সেই সীমাবদ্ধতার মাঝেই টাইপরাইটার কিবোর্ড তৈরি করেন।
কার্যত শহীদ মুনীর চৌধুরী বাংলা হরফের রোমান হরফের দাসত্বের শেকল ভাঙেন। তিনি বাংলা ভাষার নিয়ম ও হরফের ব্যবহারকে মাথায় রেখে ১৯৬৫ সালে বাংলার ম্যানুয়েল টাইপরাইটারের কিবোর্ডের জন্য শব্দের পৌনঃপুনিকতা যাচাই করে প্রথম একটি বিজ্ঞানসম্মত কিবোর্ড প্রণয়ন করেন। এই কিবোর্ডের অন্তত তিনটি প্রধান সুবিধা হলো :
ক) কিবোর্ডের মাত্র ৯২টি বোতাম চেপে কোনো ধরনের প্রোগ্রামিং ছাড়া কমপক্ষে ৪৭৯টি বর্ণ-সংখ্যা-চিহ্ন গ্রাফিক্যালি তৈরি করা একটি দুঃসাধ্য কাজ ছিল। মুনীর কিবোর্ড দিয়ে সে কাজটি পুরোপুরি করতে না পারলেও অনেকাংশেই করা সম্ভব হয়েছে। আমরা এখন যখন কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং ক্ষমতাকে কাজে লাগাই তখন একটি সংযুক্তি বর্ণকে দিয়ে হাজার হাজার যুক্তাক্ষর তৈরি করি বা রোমান হরফ দিয়ে ইংরেজিতে লিখে তাকে বাংলায় রূপান্তর করি। এটি কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং করার ক্ষমতা। ম্যানুয়্যাল টাইপরাইটারে এমন কোনো সুবিধা না থাকায় টাইপরাইটারের বোতামে বর্ণ স্থাপন করে সকল বাংলা বর্ণ গ্রাফিক্যালি উৎপাদন করার ব্যবস্থার পাশাপাশি টাইপ করার গতির প্রতি লক্ষ রাখতে হয়েছে। মুনীর কিবোর্ডে সেই কাজটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করা হয়েছে।
খ) মুনীর চৌধুরী মনে করেছেন যে, বাংলা টাইপিং মানে রোমান হরফ নয়। বাংলা হরফের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। শব্দে এর হরফের ব্যবহারের নিয়মকানুন ভিন্ন। এমনকি রোমান হরফ দিয়ে সকল বাংলা বর্ণ উৎপাদনও করা যায় না। তিনি অনুভব করেন যে রোমান হরফ দিয়ে বাংলা সকল বর্ণের প্রতিরূপ তৈরি করা সম্ভব নয়। সর্বোপরি কোনো ভাষার টাইপিংয়ের গতি মানে সেই ভাষার শব্দে হরফের ব্যবহারের পৌনঃপুনিকতা ও আঙুলের ব্যবহারের সুবিধার বিষয়। দুনিয়ার কোনো ভাষাই তার নিজের হরফে টাইপ করার জন্য রোমান কিবোর্ডকে অনুসরণ করেনি। হতে পারে কোনো ভাষা তার নিজের হরফের বদলে রোমান হরফ ব্যবহার করেছেÑ কিন্তু তার নিজের ভাষা রোমান হরফের নিয়মে টাইপরাইটারে বসিয়ে এর বিজ্ঞানসম্মত সমাধান করতে যায়নি। শহীদ মুনীর চৌধুরী তার কিবোর্ডে শব্দের পৌনঃপুনিকতা বিচার করে বিজ্ঞানসম্মতভাবে বোতাম অনুযায়ী বাংলা বর্ণ স্থাপন করেন। এটি বাংলা বর্ণমালার জন্য প্রথম একটি বিজ্ঞানসম্মত প্রয়াস। অর্থাৎ এই কিবোর্ড ইংরেজি কিবোর্ডকে অকারণে অনুসরণ করেনি। ইংরেজি বর্ণমালার পিছু পিছু ছুটে বাংলা লেখার গতিকে রোমান হরফের শৃঙ্খলে বন্দী করা হয়নি।
গ) মুনীর চৌধুরীর একটি অসাধারণ প্রয়াস ছিল কিবোর্ড তৈরি করার নামে তিনি বাংলা হরফের কোনো পরিবর্তন করতে চাননি। তিনি বলেননি যে, টাইপরাইটারে জায়গা হয়নি বলে বাংলা যুক্তাক্ষর ফেলে দাও বা বাংলা বর্ণ কমিয়ে ফেলো। কোনো বর্ণকেই তিনি অপ্রয়োজনীয় মনে করেননি। তার মানে তার কিবোর্ড প্রণয়নের নামে ভাষা পরিবর্তনের বুজরকি করা হয়নি। এখনো বাংলা ভাষার অনেক ব্যবহারকারী এমনকি প-িত ব্যক্তি বাংলার সংস্কারের কথা বলেন। বস্তুত এসব অজ্ঞতার ফসল। বাংলা ভাষা না জেনেই বলা হয়, এটি কঠিন।
যাহোক, টাইপরাইটারের যুগ যখন শেষ হয়েছে তখন কেউ কেউ এই লেখা পড়েই আমাকে প্রশ্ন করবেন, তাহলে আপনি আপনার বিজয় কিবোর্ড যখন তৈরি করেন তখন কেন মুনীর কিবোর্ডকেই হুবহু ব্যবহার করেননি। ইংরেজিতে টাইপরাইটার ও কম্পিউটারের কিবোর্ড তো আলাদা নয়। এই প্রশ্নের জবাবে আমাকে প্রথমেই বলতে হবে যে বাংলার মতো এতো বেশিসংখ্যক শব্দ রোমান ভাষায় নেই। ফলে তাদেরকে টাইপরাইটার থেকে কম্পিউটারে আসার সময় নতুন কোনো প্রযুক্তি বা টাইপরাইটারের কিবোর্ডের সঙ্গে নতুন কোনো বোতাম বা স্তর তৈরি করতে হয়নি। এমনকি মাত্র ২৬টি বোতামে রোমান ভাষাসমূহ লেখার জন্য টাইপরাইটারের কিবোর্ডই যথেষ্ট ছিল। তবে যখন সেই রোমান হরফ মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত হতে থাকে তখন কিন্তু এর কিবোর্ড বদলাতে হয়েছে এবং কোয়ার্টি কিবোর্ড কোনোভাবেই হুবহু রাখা সম্ভব হয়নি। ওখানে মাত্র ১০টি বোতামে রোমান হরফ তৈরি করার জন্য একই বোতামে একাধিক বর্ণ রাখতে হয়েছে। এমনকি কোয়ার্টি লেআউটও ঠিক রাখা হয়নি। এই কাজটি টাইপরাইটারে করতে হলে তার স্তর বাড়াতে হতো।
বাংলা শব্দগুলোকে কিবোর্ডের ৪৭দ্ধ২ ৯৪টি বোতামে স্থাপন করা কঠিন। মুনীর চৌধুরীকে সেই শব্দগুলোকে এজন্য ভাঙতে হয়েছে এবং গ্লিফ ব্যবহার করে বাংলা হরফ তৈরি করতে হয়েছে। ভাবুন তিনি একই ঊর্ধ্ব মাত্রা ই, উ, ঊ-এর জন্য ব্যবহার করেছেন। তিনি একটি বিন্দু য়, ড় ও ঢ়-এর জন্য ব্যবহার করেছেন। সবাই জানেন এসব অক্ষরে বিন্দু একই স্থানে বসে না। টাইপরাইটারে আমরা আপোস করতে বাধ্য হয়েছি। কম্পিউটারে এই সীমাবদ্ধতা নেই। ফলে এর বদলে আমি অন্য কিছু ভাবতে পেরেছি। তবুও আমি প্রথমে মুনীর কিবোর্ডকে অনুসরণ করেই ১৯৮৭ সালে জব্বার কিবোর্ড নামক একটি চারস্তরের কম্পিউটার কিবোর্ড তৈরি করেছিলাম যাতে মুনীর কিবোর্ডের অসম্পূর্ণতাকে পূর্ণ করা হয়েছিল। পরে যখন এটি উপলব্ধি করলাম যে শহীদ মুনীর চৌধুরী ম্যানুয়্যাল টাইপরাইটারের যুগে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে যা করেছিলেন তার চারটি স্তরকে কমিয়ে বিজ্ঞানসম্মতভাবেই দুটি স্তরে বিন্যস্ত করা যায় এবং সেজন্য কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং ক্ষমতা ব্যবহার করে হাজার হাজার বাংলা হরফও অনায়াসে তৈরি করা যায় তখন আবার নতুন করে মুনীর চৌধুরীর বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি তথা শব্দ ব্যবহারের পৌনঃপুনিকতা যাচাই করে আমি বিজয় কিবোর্ড বিন্যস্ত করি। আমি যদি মুনীর কিবোর্ড অধ্যয়ন না করতাম, যদি আমি তার বৈজ্ঞানিক প্রয়াসকে অনুভব করতে না পারতাম তবে বিজয় কিবোর্ডের জন্ম হতো না। বিশ্বের সকল বাংলা ভাষাভাষীর মতো আমিও এই মহামানবের কাছে ঋণী।
আমার বিজয় তৈরি করার ক্ষেত্রে আমি প্রথমে যে পরিবর্তনটি করি সেটি হলো বাংলা শব্দ তৈরির নিয়মটাই বদলাই। মুনির এবং অন্য কিবোর্ডে গ্রাফিক্যালি যুক্তাক্ষর তৈরি করা হয়। আমি সকল ব্যঞ্জনবর্ণ, ২টি স্বরবর্ণ, ৯ট স্বরচিহ্ন গ্রাফিক্যালি তৈরি করার ব্যবস্থা রেখেছি। বিজয় কিবোর্ডে ৯টি স্বরচিহ্ন ও সকল যুক্তাক্ষর তৈরি হয় বাংলা বর্ণের যুক্ত হওয়ার বিজ্ঞানসম্মত নিয়ম অনুসারে। একটি লিঙ্ক বোতাম যা বাংলার হসন্ত সেটিই প্রকৃতপক্ষে যুক্তাক্ষর তৈরির নিয়ামক। আমি সেই হসন্তকে যুক্তাক্ষর তৈরির নিয়ামক হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করি। একই সঙ্গে নতুন নিয়ম অনুসারে আমি পৌনঃপুনিকতা বিশ্লেষণ করি। ফলে এটি বাংলা বর্ণবিন্যাসের মধ্য দিয়ে একটি নতুন রূপ পরিগ্রহ করে। বিজয় কিবোর্ড তাদের কাছে কঠিন মনে হতে পারে যারা বাংলা যুক্তাক্ষর তৈরির এই কায়দাটি জানেন না। আমি এটি আশা করি না যে, বাংলা না জেনে কেউ বাংলা টাইপ করবেন। এজন্য ইংরেজি কিবোর্ড দরকার নেই। বাংলাদেশে এখন বিজয় লেআউটসহ কিবোর্ড পাওয়া যায়। কেউ যদি শুধু বাংলার নিয়মগুলো জানেন তবে তার পক্ষেই দ্রুতগতিতে বাংলা লেখা সম্ভব।
আমি জানি না, ইতিহাস আমার এই প্রয়াসকে কিভাবে দেখবে। তবে আমি এটি অনুভব করি যে, বাংলাদেশের মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্প এই উদ্ভাবনের সুফল ভোগ করছে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮৮ থেকে। আগামীতে নতুন কিছু আসবে কিনা সেটি আমি জানি না। তবে এখনো বাংলাদেশের মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পেশাদারিত্বের জায়গায় কোনো বিকল্প জন্ম নেয়নি। তবে প্রতিটি ছাত্র যেমন করে তার শিক্ষককে মা-বাবার মতো শ্রদ্ধা করে এবং তার আদর্শ জীবনের অনেক কিছুতে প্রয়োগ করে আমি তেমনি আমার শিক্ষক শহীদ মুনীর চৌধুরীর নীতি ও আদর্শকে শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছি। তবে আমার সৃষ্টি মুনীর কিবোর্ডে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং মুনীর কিবোর্ডের টাইপরাইটারের যুগকে আমি কম্পিউটারের যুগে পৌঁছে দিয়েছি।
ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২
মোস্তাফা জব্বার : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও কলামিস্ট।







