Tuesday,
December 18 - December 24 , 2012 > Volume 13 > Issue 04



বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা

  • PDF

কামাল উদ্দিন আহম্মেদ

একজন প্রকৌশলী হিসাবে নিতান্ত বিনীতভাবে জাতির কাছে আবেদন করছি প্রথমে রাস্তাঘাটের উন্নতি করতে হবে। শহরের রাস্তাঘাটে বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। রাস্তার উপরে যে পীচঢালা হয় তা পানির থেকে হালকা। তাই বৃষ্টি হলেই রাস্তাতে যদি পানি জমে তবে ঐ পিচ পানিকে নিচে ফেলে উপরের দিকে উঠে আসতে চায়। ফলে রাস্তা ফেটে তা চাকার ঘর্ষণে রাস্তা নষ্ট হয়ে যায় এবং রাস্তায় খাল-খন্দকের সৃষ্টি হয়। ব্যাংকককে ও সিঙ্গাপুরেও প্রচুর বৃষ্টি হয়। কিন্তু সেখানকার রাস্তা ভাল অবস্থাতেই আছে। এর কারণ সেখানে রাস্তাতে পানি জমে না। প্রচন্ড মুশলধারে বৃষ্টির পর দেখা যায় রাস্তাতে একফোটা পানিও থাকে না। অর্থাৎ রাস্তা একপাশ থেকে অন পাশে ঢালু থাকে। পানি গড়িয়ে একদিকে চলে আসে এবং ঐ পাশে ভাল ড্রেনেজের ব্যবস্থা থাকে এবং পানি দ্রুত ড্রেনে নেমে যায়। আমরা এভাবে রাস্তা তৈরি করতে পারি না কেন?

যদি নিজেরা না করতে পারি তবে অভিজ্ঞ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে এর দায়িত্ব দিতে পারি কি? একজন মেকানিকেল ইঞ্জিনিয়ার। তবে রাস্তার মাঝে অংশ দুইপাশ থেকে কিছুটা উঁচু থাকে একে সম্ভবত ম্যাকাডম বলা হয়। যাতে করে বৃষ্টির পরে পানি দুইদিকে নেমে যেতে পারে। তাহলেই রাস্তা ভাল থাকবে। দুইপাশে ড্রেনেজের ব্যবস্থা থাকতে হবে। রাস্তাঘাট তৈরি, আগে ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়তে হবে। মোট কথা সড়ক, জনপথ, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, বিদ্যুৎ এইসব সংস্থার মধ্যে কোর্ডিনেশনের অভাব। রাস্তার কাজ শেষ হল, ওয়াশা এসে রাস্তা খোড়ার কাজ শুরু করল। তাই এসব সংস্থার মধ্যে প্রতি বছরেই কোর্ডিনেশন মিটিং হওয়া বাঞ্চনীয়। স্ট্রিটগুলি এভিনিউর সঙ্গে এসে মিলিত হয়। প্রত্যেক স্ট্রিট ও এভিনিউতে ড্রিলং ব্যবস্থা থাকতে হবে। এই ব্যবস্থা চালু করতে সিমেন্স এর মত অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রথম গাড়ি এরপর উহার প্রতিস্থাপনের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। মনেকরি যদি লেন বাইলেনে সিন্ডালিং ব্যবস্থা না থাকে তবে যানবাহন যেমন তেমনভাবে এভিনিউতে পড়ে জেমের সৃষ্টি করবে। সিঙ্গাপুরে ডাউন-টাউনে রিকশা চলতে দেখা যায় কিন্তু যথাযথ সিন্ডালিং ব্যবস্থা থাকার জন্য সেখানে জেম তৈরি হয় না। রিকশা শুধু চলবে পাড়াতে। তারা বড় রাস্তায় চলতে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। আর রিকশাকে মোটরাইজ করলে ভাল হয়। তাতে রিকশার গতি বাড়বে এবং জ্যামের সম্ভাবনা কমবে। সিঙ্গাপুরের রিকশা আসলে একটি সাইকেরলর সঙ্গে যাত্রীর বসার ক্যাবটি পিছনের চাকার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। ঠিক এভাবেই একটি সাইকেলকে মোটরাইজ করে তার পিছনের চাকার সঙ্গে যাত্রীর ক্যাবটি যুক্ত করে রিকশা তৈরি করতে হবে। সাইকেলকে ব্যাটারী চালিত মোটর দ্বারা চালাতে হবে।তাহলে রিকশা শিল্প বহাল থাকবে। কারণ হঠাৎ করে রিকশা শিল্প বন্ধ করে দিলে বহু লোক বেকার হয়ে পড়বে। তাই রিকশা আধুনিকরণের চিন্তা করতে হবে।

নিউইয়র্ক

Share this post

Add comment




You are here: ফিচার পাঠক মঞ্চ বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা