নীরব এক কর্মীর কথা

  • PDF

জবাদুল আখতার

নদীর ¯্রােতের মতই ‘এখন সময়ের’ গতি। ভাবতে অবাগ লাগে এই তো সেদিন... কিন্তু না এক যুগ হয়ে গেছে মানে ‘বার’ বছর। আমি অবশ্য শুরু থেকে ছিলাম না। তবে বলা চলে ‘এখন সময়’ ঢাকা অফিসে শুরু থেকে ছিলাম। সাংবাদিক মশিউর রহমান রুবেলের মাধ্যমে আমি ‘এখন সময়’ অফিসে আসি এবং রাহাত শামস নামে একজন ‘এখন সময়ে’র নির্ভীক কর্মী- চুল, দাড়ি, গোঁফে একেবারে দেবদাসের মতই আকৃতি। বয়স খুব একটা বেশি নয়, কেবল কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পা দিয়েছে এমন একজনের সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দেন এবং আমার ডিউটির শিডিউল ও সময় তিনি নির্ধারণ করে দেন।

পরের দিন যথাসময়ে অফিসে এলাম, আর মনে মনে ভাবলাম এ কেমন অফিস! একটা ল্যাপটপ আর কম্পোজ করার মত একটা ম্যাক কম্পিউটার ছাড়া আর কিছুই নেই। এমন কি মাথার উপর ফ্যানটা পর্যন্ত নেই। অফিসে এসে কিছুক্ষণ পর সাংবাদিক মশিউর রহমান রুবেলকে ফোন করে বললাম আমিতো অফিসে চলে এসেছি কিন্তু রাহাত ভাই কই। উনি বললেন, আপনার যা কাজ আপনি করে যান... উনি এখন ঘুমাচ্ছেন। জিজ্ঞেস করলাম এত বেলা পর্যন্ত দিনের বেলায় কি কেউ ঘুমায়। উনি বললেন, সারা রাত কাজ করেছে সকাল ৭টার দিকে ঘুমিয়ে পড়েছে। কিছুক্ষণ পর রাহাত ভাই এলেন আমার কি কাজকর্ম তিনি বুঝিয়ে দিলেন এবং নিজেও কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। ক’দিন বাদ বুঝতে পারলাম আমাদের সেই নির্ভীক কর্মীর দেবদাস হওয়ার মূল কারণ। দিন-রাত একাধারে এ পত্রিকার পিছনে পাগলের মত শ্রম দেয়ার কারণেই চুল, দাঁড়ি কাটার সময় পর্যন্ত পেতেন না।

গ্রীষ্মকাল প্রচন্ড গরম একদিন রাহাত সাহেবকে বললাম, একটা ফ্যানের দরকার উনি চট করে জানালার গ্লাস সরিয়ে দিয়ে বললেন, ফ্যানের বাতাসের চেয়ে এটাই উত্তম বাতাস। এসির বাতাসের চেয়ে কম কি? সত্যিই ‘এখন সময়’ অফিস ছিল ১৭ তলায় জানালা খুলে দিলে ঝড়ের মত ঠান্ডা বাতাস পাওয়া যেতো। কিন্তু তারপরও অফিস বলেতো একটা কথা...। একটা অফিসে ফ্যান থাকবে, টেবিল চেয়ার থাকবে, আশপাশে আরো লোকজন থাকবেÑসব মিলেইতো অফিস।

কিছুদিন বাদে সকালে অফিস এসে দেখতে পেলাম মাথার উপরে সুন্দর একটা ফ্যান ঘুরছে। নতুন কম্পিউটার, সুন্দর একটা টেবিল ও চেয়ার বেশ পরিপাটি লাগছিল। এনাম নামে আরও একজন কর্মীকে বিনোদনের পাতার কাজ করতে দেখলাম। ওনার সাথে আমার পরিচয় হলো। বেশ ভাল লাগলো। মনে হচ্ছিল হ্যাঁ, এখন আমি অফিসে আছি। এভাবে আস্তে আস্তে দেখি কম্পিউটার, ফ্যান, স্কানার, প্রিন্টার মোট কথা অফিসের জন্য যা যা দরকার সবই হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের সেই রাহাত ভাই এখনও ‘দেবদাস’ রয়ে গেছেন। তার মুখে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি, বড় বড় চুল প্রায় সবসময়ই দেখতে পাওয়া যায়। ভাবছিলাম বিয়ে-শাদির পর হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু না, অফিস বড় হওয়ার সাথে সাথে অফিসের কাজকর্ম বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে তার কাজের ব্যস্ততাও বেড়ে যাওয়াতে তিনি হয়তো ‘দেবদাস’ই রয়ে গেলেন।

একযুগ পদাপর্ণে শুভেচ্ছা, স্বাগতম ও ভালোবাসা পাবার একটা বড় অংশিদার বলা চলে আমাদের নীরব কর্মী ‘দেবদাস’ রাহাত ভাইকে। কারণ ঢাকা থেকে ওনার অক্লান্ত পরিশ্রম, মেধা এবং চিন্তা চেতনায় প্রতিষ্ঠিত ‘এখন সময়’ পৌঁছে যাচ্ছে পাঠকদের দ্বারে দ্বারে। সবাইকে ধন্যবাদ।

Share this post

You are here: আর্কাইভ বিশেষ সংখ্যা নীরব এক কর্মীর কথা