আশিক ইসলাম
গড ইজ ডেড । ঈশ্বর মারা গেছেন। আমরা তার জন্য কি দোয়া করবো ? তার আত্মার শান্তির জন্য কার কাছে করবো প্রার্থনা ? যে বিশ্বে ঈশ্বর বলে কোন জিনিস নাই সে বিশ্বে কি মানুষ বেচে থাকতে পারে ? নাকি সম্ভব ? বেচে থাকলে, কি ভাবে তারা বাচে? আজ থেকে প্রায় ১৩০ বছর আগে, এমনই নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে, ‘উইল টু পাওয়ার’ এবং ‘সুপারম্যান’ তত্তে¦র জন্ম দিয়েছিলেন জার্মান দার্শনিক ফ্রেডরিক উইলহেলম নীথসে (ঋৎরবফৎরপয রিষযবষস হবরঃুংপযব, ১৮৪৫-১৯০০)। লিপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে তিনি প্রবন্ধ রচনার কাজে হাত দেন এবং অল্প সময়ে একজন বিতর্কিত প্রবন্ধকার হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন। অবশ্য সে সময় অনেক সমালোচক নীথসের লেখাকে, চিত্ত-উন্মাদ্গ্রস্থ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। বিশেষ করে তার ‘উইল টু পাওয়ার’ বা ক্ষমতা বিস্তার ইচ্ছা তত্ত¦ এবং ‘সুপারম্যান’ বা অতিমানব তত্ত¦ হয়েছিলো ব্যাপক আলোচিত সমালোচিত। এই দুই তত্তে¦র মর্ম কথা হল
সাধারন মানুষ যে ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে, আধুনিক রাষ্ট্র এবং সমাজ ব্যবস্থায় সেই ঈশ্বর প্রদত্ত নিয়ম নীতির কোন প্রতিফলন নেই। কারণ, বিশ্ব হচ্ছে একটি ‘কেয়স’ বা বিশৃঙ্খলা। এই বিশৃঙ্খল সমাজ ব্যবস্থায় মূলত দুইটি শ্রেণী থাকবে, প্রভু শ্রেণী ও দাস শ্রেণী । নৈতিকতাও থাকবে দুই ধরণের, প্রভু ও দাস নৈতিকতা। গণতন্ত্র মানবতা সৌজন্য শালীনতা ভদ্রতা নম্রতা ধর্ম নীতি, নৈতিকতা দয়া মায়া অনুকম্পা সহানুভুতি এর কোন কিচ্ছুই এলিট বা প্রভ্ ুশ্রেণীর মধ্যে থাকবে না। রাষ্ট্র পরিচালকদের মধ্যে যদি এ মনোবৃত্তি থাকে তবে, শাসক কখনই সুপারম্যান বা অতিমানব হতে পারবে না। এবং সেই শাসন ব্যবস্থা হবে নীচ, হীন এবং ইতর জনতার শাসন ব্যবস্থা। নীথসের মতে, ‘সর্বাধিক সংখক লোকের সর্বাধিক সুখ’ নিশ্চিত করা কখনই রাস্ট্র বা সরকারের মূল লক্ষ্য হতে পারে না। তার মতে, “অভিজাত প্রভুদের স্বার্থে, অভিজাত প্রভুগণ কর্তৃক পরিচালিত সরকারই হচ্ছে স্বাভাবিক ও শ্রেষ্ঠতম সরকার। আর এই সরকার ব্যবস্থায় সংখ্যাগুরু লক্ষ কোটি জনতা তথা দাস শ্রেণীর একমাত্র উদ্দেশ্য হবে সংখ্যালঘু এলিট প্রভুদের সুখ নিশ্চিত করা”। দাস শ্রেণী, তাদের সেই একমাত্র উদ্দেশ্য থেকে যেন কোনক্রমে বিচ্যুত না হতে পারে, সে জন্য নিথসে, শাসকদেরকে প্রতিনিয়ত জনতার ওপর কঠিন জুলুমের তাগিদ দিয়েছেন।
ইতিহাসের বিচারে নিথসে তার এই তত্তে¦র কারনে পায়নি কোন আসন। বরং রাষ্ট্র বোধ্যাদের নিকট হয়েছেন সমালোচিত ধিকৃত। এমনকি রাষ্ট্র সমাজ বা দার্শনিকের তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে তার নাম। তারপরেও কালের বিবর্তনে, সময়ের প্রয়োজনে উঠে এসেছে নিথসের নাম ও তত্ত¦। বিশেষকরে ফ্যসিবাদের নায়ক মুসেলিনি, নাথসিবাদের নায়ক হিটলারের শাসনামলে অনেক সমালোচক কুৎসিত এই শাসকদেরকে মিলিয়ে দেখতে চেয়েছেন নিথসের অতি কুৎসিত তত্তে¦র সাথে। অনেক হতাশাবাদি সমালোচক সে সময় এও বলেছেন, নিথসের তত্ত¦ই সত্য। প্রকৃত পক্ষেই ঈশ্বর মারা গেছেন। তা না হলে এমন জুলুম কখনই কোন রাষ্ট্র বা সমাজে হতে পারে না । ঈশ্বরের দুনিয়াতে ঈশ্বরের চেয়ে ক্ষমতাধরের জন্ম হতে পারে না।
আজ একই চিত্র আমাদের এই বাংলাদেশে। সময় এসেছে মিলিয়ে দেখার, আওয়ামী ফ্যসিবাদ ও শেখ হাসিনার সাথে নিথসের তত্ত¦। সময় এসেছে, সম্মিলিত ভাবে বলার, ঈশ্বর তুমি কোথায় ?
দেখে যাও, তোমার দুনিয়ায় তোমার চেয়ে ক্ষমতাধরের জন্ম হয়েছে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার, যথার্থয় অভিজাত প্রভুদের সার্থে পরিচালিত সরকার। আর তাদের একমাত্র প্রভু হচ্ছে ‘ভারত’। যা ইতিমধ্যেই দেশী-বিদেশী এবং বিশ্বখ্যাত মিডিয়াতে ব্যাপক ভাবে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়েছে।
২০১০ এর শুরুতেই বিশ্বখ্যাত, ইউক্লিক্স প্রথম আন্তর্জাতিক ভাবে প্রকাশ করে যে, ‘২০০৮ এর জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ভারতের সাহায্য সহযোগিতায় সরকার গঠন করেছে’ ।
২০১১ এর ৩০ জুলাই, বিশ্বখ্যাত “দ্য ইকনমিস্টে” প্রকাশিত হয় যে, “ভারতের বিপুল পরিমান অর্থ এবং পরামর্শে ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ নির্বাচনে জয়লাভ করে। অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে আওয়ামীলীগ ভারতের সাথে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন রচনাসহ, ভবিষ্যতে আধিকতর পারস্পরিক সুবিধার শপথ নিয়েছে”।
এতো গেল, ক্ষমতার মসনদে অসীন হবার জন্য, ভারতের কাছথেকে প্রাপ্ত আওয়ামীলীগের সুবিধা। এখন দেখাযাক, বিনিময়ে আওয়ামীলীগ কি কি সুবিধা দিচ্ছে ভারত কে।
দুঃখ জনক হলেও সত্য, ভারতকে নির্বিঘেœ যাবতীয় সুবিধা দেবার লক্ষ্যে, শেখ হাসিনার সরকার প্রথমেই দেশের অভন্তরে এবং ভারত-বাংলাদেশ সুদীর্ঘ সীমান্তে অনুকুল পরিবেশ তৈরী করতে সক্ষম হয়। আর এ জন্য চরম মূল্য দিতে হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। বিডিআর বিদ্রহের নামে, বিডিআরদের সাধারণ ক্ষমা, আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ ইত্যাদি নানা নাটকের মাধ্যমে এক দিনে হত্যা করা হয় সেনাবাহিনীর ৫৮ জন চৌকস অফিসারকে। পরবর্তীতে এই ঘটনার রেশ ও নানা অমুলক ওজুহাতে চাকুরীচ্যুত করা হয় ৩৭০ জনেরও বেশী সেনা করমকর্তা। বিলুপ্তি করা হয়েছে সীমান্তের অতন্ত্র প্রহরী বিডিআর বাহিনীকে, চাকুরীচ্যুত করাসহ তথাকথিত বিচারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সাজা দেয়া হয়েছে কয়েক হাজার বিডিআর জোয়ানকে। এমনকি ফারুক-হুদাদেরকে ফাঁসী দেবার পর, কফিনে জুতা স্যান্ডেল ঝাড়ু নিক্ষেপ এবং সেনাবাহিনী সম্পর্কে নানা সময় নানা কটূক্তির মাধমে,
দুর্বল করা হয়েছে সেনাবাহিনীর মনোবল। সেই সাথে বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন করতে নেয়া হয়েছে নানামুখি পদক্ষেপ। এমনি নীলনকশার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধমে, ভারতকে জানামতে এখনপর্যন্ত যে সকল সুবিধা দিচ্ছে সেগুল হল-
১। ভারতকে সীমান্তের ১৫০ গজ এগিয়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মানের জন্য অনুমতি প্রদান।
২। বিনা টেন্ডারে ২৬’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের দায়িত্ব ভারতের কাছে হস্তান্তর।
৩। ভারতের সেভেন সিস্টারের বিদ্রোহ দমনে, সহযোগী দেশ হিসাবে বাংলাদেশ-ভারত সন্ত্রাস দমন চুক্তি সাক্ষর।
৪। ত্রিপুরায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের নামে ভারত, বাংলাদেশের আশুগঞ্জ নদীবন্দর এবং আখাউড়া সড়ক পথ ব্যবহার করছে, বিনা শুলকে, বিনা বাধায়।
৫। ভারতকে চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর ব্যবহার সহ আশুগঞ্জ বন্দরকে পোর্ট অব কল হিসাবে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে হাসিনা সরকার।
৬। বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক উন্নয়নের নামে চলছে, হাসিনা ও গান্ধী পরিবারের মধ্য সম্পর্ক উন্নয়নের জোর প্রচেষ্টা। আর এ কারণে সোনিয়া গান্ধী একের পর এক বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী ও হাই অফফিসিয়ালদেরকে প্রেরন করছেন বাংলাদেশ এ। নিজেও ঘুরে গেলেন। ২০০ ভরি স্বর্ণ দিয়ে বরণ করা হল তাকে।
এগুলো ছাড়াও সবচেয়ে ভয়াবহ চুক্তি হল, বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতের ট্রানজিট সুবিধা লাভের চুক্তি। ট্রানজিট ব্যবহার করে ভারত খুব সহজেই পুর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী ৭ রাজ্যকে দমনে সচেষ্ট হবে। বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশে ভারত ব্যপক সামরিক শক্তি বাড়াতে সক্ষম হবে। অরুনাচলের দক্ষিণ তিব্বতে চীনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত সংঘর্স লেগেই আছে। শুধু মাত্র যাতায়ত অসুবিধার কারনে ভারত এ অঞ্চলে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত সামরিক ঘাটি গড়ে তুলতে পারেনি। ভারতের ট্রানজিট সুবিধার ফলে বাংলাদেশ হয়ে পড়বে এক বিশাল বিস্ফোরক উন্মুখ সামরিক ঘাটিতে।
ইতিমধ্যেই ভারতের ট্রানজিট সুবিধায় রাস্তা ও রেল তৈরিতে “কড়া শর্তে চড়া সুদে” ভারতের পরামর্শে ভারতের একটি ব্যাংক থেকে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে হাসিনা সরকার। ঋনের শর্ত অনুযায়ী, ৮৫ পণ্য ও সেবা ভারত থেকে কিনতে হবে, অর্থাৎ গোটা টাকার ৮৫ চলে যাবে আবার ভারতে। ঋণের সুদ দিতে হবে ১৭৫ (যেখানে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির সুদের হার ০২৫)। কমিটমেন্ট ফি নামে অতিরিক্ত সুদ এবং ২৫ বছর মেয়াদে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সুদের দ্বিগুণ জরিমানা দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে, সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেছেন, ‘ভারতের ১০০ কোটি ডলার ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে কমিটমেন্ট চার্জ নামে শতকরা পয়েন্ট ৫০ পার্সেন্ট সুদ ধরা হয়েছে, কাবুলিওয়ালারাও এ ধরনের সুদ নেয়নি কখন’।
অবাক বিষয় হল, বাংলাদেশ যদি এ টাকা ব্যয় নাও করে, তারপরেও বাংলাদেশকে বছরের পর বছর প্রতিশ্রুত টাকার ওপর কমিটমেন্ট চার্জ নামের এ সুদ প্রদান করতে হবে। আরও অবাক করা বিষয় হল, ঋণের এই টাকা থেকে আশুগঞ্জে পোর্ট স্থাপনের জন্য ৩০০ কোটি, রামগড়-সাবরুম সড়ক নির্মানে ২০০ টাকা ব্যয় করতে হবে। যা বাংলাদেশী জনগনের কোন কাজে আসবে না, ভারতের প্রয়োজনেই করা হবে।
ভারতের সর্বশেষ সর্বনাশা পদক্ষেপ হল, বাংলাদেশের সিলেট আঞ্চল মরুভূমি করে টিপাইমুখ বাধ নির্মাণ। এতে গোটা দেশ উত্তাল হলেও নিরলিপ্ত হাসিনা সরকার।
নিথসের সূত্র আনুযায়ী এ তো গেল, বিদেশী প্রভুদের স্বার্থে পরিচালিত হাসিনা সরকারের কিছু কর্মকা- । এবার দেখাযাক দেশীয় আভিজাত শ্রেণীর স্বার্থে পরিচালিত কিছু কর্মকান্ড।
ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে, হাসিনা সরকার প্রকৃত পক্ষে নিজের এবং নিজ দলের নেতা-কর্মীর ডিজিটাল উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছেন। সত্যিকার ভাবেই নানা’র মাধ্যমে বর্তমান সরকার জনগণের পকেট থেকে হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। যেমন,
আখ্যাত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুন্দরবনকে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চার্যের তালিকায় উঠানোর মিথ্যা ফাঁদ তৈরি কওে এস,এম,এস এর নামে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটা এসএমএস এর টাকার ৪০ গেছে মোবাইল কোম্পানির পকেটে আর বাকি ৬০ গেছে ডিজিটাল বাংলাদেশ এর স্বপ্ন দ্রষ্টাদের পকেটে। আর প্রতারণার এই ফাঁদের উদ্বোধনকারী স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শেয়ার বাজার থেকে লুঠ করা হয়েছে হাজার কোটি টাকা। সর্বশান্ত করে পথে বসানো হয়েছে ৩৫ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীকে ।
বিদ্যুত উৎপাদনের নামে, নিজ পরিবার ও দলীয় নেতা কর্মীকে মোট ১৭টি রেন্টাল বিদ্যুত কেন্দ্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে সরকার প্রতি ইউনিট বিদ্যুত কিনছে ১৩ টাকা দরে। এতেকরে প্রতি বছর সরকারকে ভর্তুকি গুনতে হছে, ১০ হাজার কোটি টাকা। জনগণের নাভিশ্বাস তুলে দফায় দফায় বাড়ানো হছে বিদ্যুতের দাম। অন্যদিকে রেন্টাল বিদ্যুত উৎপাদনকারীরা প্রতি ইউনিটে লাভবান হছে ৬ থেকে ৮ টাকা। অর্থাৎ হাজার হাজার কোটি টাকা চলে যাছে অভিজাত শ্রেণীর কিছু আওয়ামী নেতার পকেটে।
একই চিত্র পেট্রোল ডিজেল কেরোসিন ও সিএঞ্জির ক্ষেত্রে। বার বার দাম বাড়িয়ে লাভবান করা হছে মধ্য সত্ত ভোগীকে। তাদের লাভের চিত্র কল্পনাতীত। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, শুধুমাত্র সি এন জিতে প্রতি ইউনিটে তাদের লাভ থাকে, ১১ থেকে ১৪ টাকা। অথচ জনগণ দিশেহারা।
দেশে, গত ৩ বছরে ছোট বড় মাঝারী যত কাজ হয়েছে বা হচ্ছে তা একচেটিয়া করছে, আওয়ামী নামধারীরা। এ ক্ষেত্রে তাদের কাজের অভিজ্ঞতা, থাকুক বা না থাকুক সেটা বিবেচ্য বিশয় না। রাজধানীর পাবলিক টয়লেট থেকে শুরু করে, পশুর হাট, বাস,ট্রাক রিক্সা টেম্পু স্ট্যান্ড, রাজপথ, রেল পথ, নদী ও আকাশ পথের সব কাজের বিশেষজ্ঞ আওয়ামী নেতা কর্মীরা।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ মন্দির শ্মশান গোরস্থান পুলিশ আনসার ব্যংক বীমা হাসপাতাল এমনকি বিচার বিভাগ পর্যন্ত রক্ষা পায়নি ছাটাইয়ের হাত থেকে।
পিয়ন দারোয়ান থেকে সর্বোচ্চ পদ কোনটাই নিরাপদ থাকেনি গত ৩ বছরে। সর্ব যায়গায় বসানো হয়েছে দলীয় লোক জন।
দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনও আজ আওয়ামী বেনিয়াদের দখলে। এখানেও পড়েছে তাদের কালো থাবা। এ অঙ্গনকেও তারা বানিয়ে ফেলেছে, টাকা কামানোর বিশাল ক্ষেত্র। ভারত থেকে একের পর এক গানের শিল্পী, বলিউড অভিনেতা অভিনেত্রি এনে হাজার টাকা থেকে শুরু করে লক্ষ টাকার টিকিট বিক্রি করে জনগনের পকেট খালি করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। নিজ দলীয় লোকজন কে টিভি চ্যনেল, পত্রিকার মালিক বানিয়ে, হাসিনা সরকার একদিকে যেমন মিডিয়া কন্ট্রোল করচ্ছে, অন্যদিকে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন বাজার।
মোট কথা বর্তমান সরকার জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, বুকে হাতদিয়ে বলতে পারবে না, তার একটিও তারা বাস্তবায়ন করছে। সব কিছুতেই হচ্ছে-হবে, কোরচ্ছি করবো। অথচ যা তারা নির্বাচনের আগে বলেনি, তার সবই তারা নিজেদের এবং ভারতের সার্থে বাস্তবায়ন করছে। দেশের সাধারণ জনগণকে তারা ভাবতে শুরু করেছে তাদের দাস, আর নিজেদেরকে পরিণত করেছে এলিট শ্রেণী বা অতি মানব সরকার। লুট-পাট করে হাজার হাজার কোটি টাকা একদিকে যেমন বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিদিন ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে সরকার দেশ পরিচালনা করছে।একের পর এক বন্ধ হয়ে যাছে শিল্প কারখানা, বন্ধ হয়ে গেছে শ্রম বাজার, প্রতিদিন শয়ে শয়ে মানুষ বেকার হয়ে দেশে ফিরে আসছে।কিন্তু কোন কিছুতেই তাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই।
এর ভবিষ্যৎ যে কী, তা একমাত্র আল্লাহ তালায় বলতে পারেন। তবে বাংলাদেশের ৯৭ ভাগ মুসলমান অবশ্যই বিশ্বাস করেন, মহান সৃষ্টি কর্তা তার সৃষ্টির অনাসৃষ্টি হতে দিবেন না।



