নির্বাচনের আগে ভোটারদের সাথে আত্মীয়তা তৈরি এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জনগণের সাথে দূরত্ব বজায় রাখা রাজনৈতিক সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) হবিগঞ্জ নিউ ফিল্ড মাঠে এক বিশাল জনসভায় তিনি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাকে বিদ্রূপ করে এই মন্তব্য করেন।
ফুলঝুরি বনাম বাস্তবতা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “নির্বাচনের আগে ভোটারদের দেখলে অনেকে বলে—আপনাকে আমার ভাইয়ের মতো লাগে। এরপর নির্বাচন যখন চলে যায় তখন ভাই তো দূরের কথা, একটু শালার মর্যাদাও তারা দেয় না।” তিনি আরও যোগ করেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও এ দেশের মানুষের মূল আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি। অনেক নেতাকে ‘বসন্তের কোকিল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা ভোটের সময় নানা ফুলঝুরি নিয়ে হাজির হলেও বিপদ বা সংকটে জনগণের পাশে থাকে না। জামায়াত এই সংস্কৃতির বাইরে বলে তিনি দাবি করেন।
শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার
ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, যারা নির্বাচনী পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাতে আসবে, তাদের প্রতিহত করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কেউ অতীতে ভালো ফল পায়নি।
ক্ষমতায় গেলে জামায়াতের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার করেন:
স্বচ্ছতা: সকল জনপ্রতিনিধি ও তাদের পরিবারকে বছরে দুবার সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
আমানত রক্ষা: জনগণের তহবিল কোনোভাবেই ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যয় করা যাবে না।
হত্যাকাণ্ডের বিচার: আবু সাইদ, আবরার ফাহাদ এবং হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী চরম দুঃসময়েও দেশ ত্যাগ করেনি এবং আগামীতেও জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে মাঠে থাকবে।