নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে ‘জান্নাতের নিশ্চয়তা’ দেওয়ার এক বিতর্কিত মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্যাহ। সম্প্রতি নিজ এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা যদি ইসলামের পক্ষে ও কোরআনের পক্ষে দাঁড়িয়ে পাল্লায় ভোট দেন, তবে সওয়াবের ভাগীদার হবেন এবং আপনাদের জন্য জান্নাত অবধারিত। আর যদি কোরআনের বিরুদ্ধে ভোট দেন, তবে গুনাহগার হবেন।" তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।
বক্তব্যে হাফিজ উল্যাহ সরকারি বিভিন্ন ভাতার অনিয়ম তুলে ধরে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে আক্রমণ করে বলেন, একদল দুর্নীতি করে শেষ, অন্যদল ফের দুর্নীতি করতে প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, অন্য প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে টেন্ডারবাজি ও প্রকল্পের টাকা লুট করবে, যা জামায়াতের দ্বারা সম্ভব নয়। তবে দুর্নীতির সমালোচনার চেয়েও তার ‘জান্নাত ও গুনাহ’ সংক্রান্ত ফতোয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ভোটের বিনিময়ে জান্নাত দেওয়ার মালিকানা দাবি করা ধর্মপ্রাণ মানুষের সাথে প্রতারণার শামিল। অনেকেই একে ‘ধর্মীয় কার্ড’ ব্যবহার করে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে এবার ৯ জন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াইয়ে হাফিজ উল্যাহর পাশাপাশি রয়েছেন বিএনপির এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের খালেদ সাইফুল্লাহ (হাতপাখা) এবং বাসদের অ্যাডভোকেট মিলন মণ্ডল (মই)। হেভিওয়েট প্রার্থীদের এই লড়াইয়ে জামায়াত প্রার্থীর এমন মন্তব্য নির্বাচনী পরিবেশকে ভিন্ন দিকে মোড় দিয়েছে। প্রশাসনের নজরদারিতে থাকা এই আসনে ধর্মীয় উসকানি বা অপব্যাখ্যার মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত প্রার্থীর এই বক্তব্য মূলত ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’ বা রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের একটি চরম উদাহরণ। ক্ষমতার বাইরে থাকা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে থাকা দলটি এখন মরিয়া হয়ে ভোটারদের আধ্যাত্মিক আবেগকে স্পর্শ করতে চাইছে। তবে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ভোটাররা অনেক বেশি সচেতন। জান্নাতের টিকিট দেওয়ার মতো অলৌকিক ও অবৈজ্ঞানিক দাবি হিতে বিপরীত হতে পারে, যা কেবল শিক্ষিত সমাজেই নয়, বরং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝেও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে। নির্বাচনী আচরণবিধিতে ধর্মীয় উসকানি নিষিদ্ধ থাকলেও এমন প্রকাশ্য বক্তব্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে একটি বড় নৈতিক বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।