নির্বাচনের অন্তিম মুহূর্তে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ক্ষমতায় বসিয়েছে জামায়াত এবং তাদের সহযোগী এনসিপি। ফলে এখন জামায়াত ও এনসিপি মূলত ক্ষমতায় বসেই নির্বাচন পরিচালনা করছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মোতালেব প্লাজায় আয়োজিত এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আব্বাস দাবি করেন, খোদ সরকার প্রধান নিজেই স্বীকার করেছেন যে একটি নির্দিষ্ট পক্ষ তাকে এই অবস্থানে বসিয়েছে। এই সমীকরণকে সামনে রেখে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াতপন্থীরা জনগণের ভোটের প্রকৃত ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে পারে।
বক্তব্যে একাত্তরের পরাজিত শক্তির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, "পুরোনো শকুনরা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি, আজও তারা এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারছে না।" তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ চক্র সকাল-বিকাল বিএনপিকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছে এবং আসন্ন ভোট ব্যাহত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এই চক্রটি দেশের গণতন্ত্রের জন্য নতুন কোনো আপদ নয় বরং দীর্ঘদিনের শত্রু বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, "আমি মারাত্মকভাবে ভোট কারচুপির আশঙ্কা দেখছি। কিছু দল ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে বিদেশিদের সঙ্গে গোপন চুক্তি করেছে।" তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান যে স্বাধীনতার ঘোষক—এই ঐতিহাসিক সত্যটি একটি পক্ষ হজম করতে পারছে না বলেই তারা জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ভোটার ও কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটের ফলাফল ছিনতাই রুখতে সবাইকে কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। ফলাফল নিশ্চিত না করে কেউ ঘরে ফিরবেন না।
প্রতিপক্ষের উসকানির বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, "ওরা চাচ্ছে আমি কোথাও গণ্ডগোল করি, কিন্তু আমি সেই ফাঁদে পা দেব না। নির্বাচনের আগে কোনো বিশৃঙ্খলা নয়, প্রয়োজনে যা করার নির্বাচনের পরে দেখা যাবে।" তবে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে কোনো ধরনের প্রতারণা বা মিথ্যার আশ্রয় নিলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
মির্জা আব্বাসের এই আক্রমণাত্মক এবং বিস্ফোরক বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন। একদিকে তিনি জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে সরকারের যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করে জাতীয়তাবাদী ঘরানার ভোটারদের মেরুকরণ করতে চাইছেন, অন্যদিকে কারচুপির আগাম শঙ্কা প্রকাশ করে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছেন। জামায়াত ও এনসিপিকে ঘিরে তার এই কঠোর অবস্থান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কথিত 'নিরপেক্ষ' ইমেজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে নির্বাচনের আগমুহূর্তে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার ডাক এবং 'পরবর্তীতে দেখে নেওয়া'র হুঁশিয়ারি রাজপথে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে, যা সাধারণ ভোটারদের মনে স্বস্তির চেয়ে উৎকণ্ঠাই বেশি তৈরি করছে।