ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫১ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

‘আমরা এমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যা এই ইহজগতে বাস্তবায়ন সম্ভব’: তারেক রহমান

‘আমরা এমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যা এই ইহজগতে বাস্তবায়ন সম্ভব’: তারেক রহমান

নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে ঢাকার রাজনীতির অন্যতম স্নায়ুকেন্দ্র মিরপুর-কাফরুল এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই ঝটিকা সফরে তিনি ঢাকা-১৭, ১৬, ১৫ এবং ১৪ আসনের বিভিন্ন স্পটে বক্তব্য দেন। তারেক রহমান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অবাস্তব কোনো স্বপ্ন নয়, বরং জনগণের সক্ষমতার ভিত্তিতে দেশ পুনর্গঠন করবে।

বিশেষ করে ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সমর্থনে মিরপুর-১০ এর সেনপাড়া স্কুল মাঠে আয়োজিত পথসভাটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ এই আসনে বিএনপির অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জোটের সমীকরণ ছাপিয়ে এখানে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তারেক রহমানের সশরীরে উপস্থিতি এবং ‘বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি’র ওপর জোর দেওয়া মূলত প্রতিপক্ষ শিবিরের ‘ধর্মীয় বা কাল্পনিক’ প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে একটি শক্ত অবস্থান হিসেবে দেখছেন ভোটাররা। তিনি বলেন, “আমরা এমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যা এই ইহজগতে বাস্তবায়ন সম্ভব।”

প্রচারণার অংশ হিসেবে তারেক রহমান ঢাকা-১৪ আসনের প্রার্থী সাঞ্জিদা ইসলাম তুলির পক্ষেও জনমত গঠন করেন। গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর এই সংগঠক বর্তমানে ঢাকার রাজনীতিতে এক মানবিক ও লড়াকু মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তারেক রহমান তাঁর বক্তৃতায় নারী ক্ষমতায়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং প্রবাসীদের জন্য জামানতবিহীন ঋণের মতো দলীয় ইশতেহারের মূল পয়েন্টগুলো তুলে ধরেন। বিশেষ করে ঢাকা-১৫ এলাকার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ১০০ ফুট রাস্তার কাজ ও নতুন হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের অঙ্গীকার করেন।

ভোটের মাঠে দুই মেরুর লড়াই

ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৪—এই দুই আসনে লড়াইয়ের ধরন ভিন্ন। ঢাকা-১৫ আসনে মিল্টনের প্রধান চ্যালেঞ্জ জামায়াত আমিরের সুসংগঠিত ভোটব্যাংক এবং ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা। অন্যদিকে, ঢাকা-১৪ আসনে সাঞ্জিদা ইসলাম তুলিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে জামায়াতের মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুকে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বলছে, এখানে লড়াইটি কেবল ভোট বা ক্ষমতার নয়, বরং দীর্ঘদিনের মিত্রদের মধ্যে কে কার চেয়ে বেশি শক্তিশালী তা প্রমাণের এক মর্যাদাকর লড়াই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার এই আসনগুলোতে বিএনপির একক শক্তিমত্তা প্রদর্শন করার চেষ্টা ভবিষ্যতে জোটের সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তারেক রহমানের এই সফর প্রমাণ করে যে, বিএনপি এখন আর বড় কোনো জোটের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব ‘ব্র্যান্ড’ এবং ‘বাস্তববাদী রাজনীতি’ দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে চায়। বিশেষ করে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের বিপরীতে সরাসরি প্রার্থী দেওয়া এবং প্রচারণায় নামা এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপি একক আধিপত্য বজায় রাখতে মরিয়া। তবে ঢাকা-১৪ আসনে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর উপস্থিতি এবং ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের ওজনদার প্রার্থিতা—এই দুই ফ্যাক্টর কাটিয়ে ওঠা ধানের শীষের জন্য বড় পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা সাঞ্জিদা বা মিল্টনের মতো নতুন নেতৃত্বের ‘বাস্তবতা’ নাকি প্রতিপক্ষের ‘আবেগ’ বেছে নেবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।