ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৫১ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

৬ সিটিতে বিএনপির ৬ নেতা প্রশাসক: নির্বাচনের আগে বড় রদবদল

৬ সিটিতে বিএনপির ৬ নেতা প্রশাসক: নির্বাচনের আগে বড় রদবদল

দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনল সরকার। ঢাকার দুই সিটিসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির ছয় শীর্ষ নেতা। গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অথবা নতুন কাউন্সিল গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই নেতারা স্ব-স্ব সিটির প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

দায়িত্ব পেলেন যারা

নবনিযুক্ত প্রশাসকদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে দলের হেভিওয়েট নেতারা। তাদের পরিচয় ও পটভূমি নিচে তুলে ধরা হলো:

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (DSCC): এখানে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মো. আব্দুস সালাম। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এবং গত নির্বাচনে দলীয় প্রধানের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (DNCC): এই সিটির দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপি নেতা মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি গত জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

খুলনা সিটি করপোরেশন (KCC): খুলনার নতুন প্রশাসক হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি খুলনা-২ আসনের সাবেক এমপি।

সিলেট সিটি করপোরেশন (SCC): সিলেটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে। গত নির্বাচনে তিনি সিলেট জেলা বিএনপির নির্বাচন সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (NCC): এখানে প্রশাসক হয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি এর আগে মেয়র পদে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন (GCC): গাজীপুরের দায়িত্ব পেয়েছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকার। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি গাজীপুর-২ আসন থেকে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ

২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করার পর থেকে সরকারি কর্মকর্তারা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রায় দেড় বছর পর সেই সব গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ফিরিয়ে আনা হলো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই এই নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, এই পদক্ষেপে তার প্রতিফলন দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে যারা সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন বা মনোনয়ন পাননি, তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দলের নিয়ন্ত্রণ এবং সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।