প্রথম ওয়ানডে জিতে দারুণ সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস সুপার ওভারে হেরে গেলেও মিরপুরে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে আর কোনো ভুল করেনি টাইগাররা। ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পাত্তাই দেয়নি মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ১৭৯ রানের বিশাল জয়ে ২–১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৯৬ রান তোলে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান গড়েন রেকর্ডভাঙা ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি—যা মিরপুরে প্রায় এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওপেনিং পার্টনারশিপ। সৌম্য ৮৬ বলে ৯১ এবং সাইফ ৭২ বলে ৮০ রান করেন। দুজনের ব্যাটে ছক্কার ফুলঝুরি ছুটেছিল প্রথম ইনিংসে।
তাদের বিদায়ের পর রানের গতি কিছুটা কমে যায়। মাঝের সারিতে তাওহিদ হৃদয় (২৮), নাজমুল হোসেন শান্ত (৪৪) ও অধিনায়ক মিরাজ (১৭) কিছুটা অবদান রাখলেও শেষদিকে নুরুল হাসান সোহান খেলেন ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস—৮ বলে অপরাজিত ১৬ রান। ফলে বাংলাদেশ থামে ২৯৬ রানে।
ব্যাটিংয়ের পর স্পিন আক্রমণেই ধস নামায় টাইগাররা। শুরু থেকেই দুই প্রান্তে নাসুম আহমেদ ও তানভীর ইসলাম উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের নাকানিচুবানি খাওয়ান। নাসুম তার প্রথম স্পেলেই তিন উইকেট তুলে নেন—আথানেজ, আগুস্তে ও কিংকে ফেরান দ্রুত।
তানভীর ইসলাম শাই হোপকে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। গত ম্যাচে দলের জয় এনে দেওয়া অভিজ্ঞ হোপ মাত্র ৪ রানে বিদায় নেন। এরপর রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে আরও ধস নামে। তিনি ফেরান রাদারফোর্ড ও রোস্টন চেসকে। শেষদিকে আকিল হোসেন ও জাস্টিন গ্রিভস কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও ফল হয়নি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুটিয়ে যায় ৩০ ওভার এক বল খেলে ১১৭ রানে। সর্বোচ্চ ২৭ রান আসে আকিল হোসেনের ব্যাট থেকে। বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে নাসুম ও রিশাদ নেন ৩টি করে উইকেট, মিরাজ ও তানভীর পান ২টি করে।
প্রথম ইনিংসেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। উইকেটের ধীর গতিতে ব্যাট করা কঠিন হয়ে পড়েছিল, যা বুঝিয়ে দিয়েছিল সৌম্য–সাইফের জুটি। সেই উইকেটেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা পরে দিশেহারা হয়ে পড়েন। ফলাফল—১৭৯ রানের রেকর্ড জয় এবং দীর্ঘ সময় পর ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসছে বাংলাদেশ।