মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে অভ্যর্থনা জানিয়ে তাকে মানবাধিকার রক্ষাকারী বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন। ওভাল অফিসে এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডে যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্যকেও প্রকাশ্যে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার সময়ে রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত রাখতে ট্রাম্পের এই ঘনিষ্ঠ আচরণ বিশেষ নজর কাড়ে। যদিও সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ এবং ২০১৮ সালে খাসোগি হত্যার ঘটনায় তার ভূমিকার প্রশ্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচিত।
ট্রাম্প বলেন, তারা বহুদিনের বন্ধু এবং প্রায় সব ইস্যুতেই একই অবস্থানে ছিলেন। সাংবাদিকেরা খাসোগি হত্যার প্রসঙ্গ তুললে ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান এবং প্রশ্ন করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, যুবরাজ হত্যাকাণ্ডে কিছুই জানতেন না এবং অতিথিকে বিব্রত না করতে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সৌদি বিনিয়োগ থেকে সম্ভাব্য এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের বিষয়টিই এ সফরে ট্রাম্পের বেশি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বলে ধারণা করা হয়। বাইডেন প্রশাসনের সময়ে প্রকাশিত মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে যুবরাজের নির্দেশেই খাসোগি হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হলেও ট্রাম্প সেই মূল্যায়নকে গুরুত্ব দিতে অনাগ্রহী ছিলেন।
হোয়াইট হাউসে যুবরাজকে অভ্যর্থনা জানাতে অপেক্ষাকৃত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করা হয়—অশ্বারোহী বাহিনী, সামরিক ব্যান্ড, এমনকি এফ–৩৫ যুদ্ধবিমানের ফ্লাই–পাস্ট পর্যন্ত। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এসব উন্নতমানের যুদ্ধবিমান সৌদিতে বিক্রির পরিকল্পনা করছে, যদিও তা আইনি অনুমোদন সাপেক্ষ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো চুক্তিও আলোচনায় আসে।
মঙ্গলবার রাতে যুবরাজকে সম্মান জানিয়ে হোয়াইট হাউসে এক ভোজসভার আয়োজন ছিল, যেখানে ব্যবসায়ী ইলন মাস্কসহ বিভিন্ন শিল্পখাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকার কথা। পরদিন ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে দুদেশের নেতারা একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নেবেন।
সফরকে ঘিরে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হবে বলে তিনি আশা করেন। যদিও এ সফরে সে বিষয়টি আলোচনার টেবিলে ছিল না। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনা এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণে ট্রাম্প সৌদিদের সহযোগিতা ধরে রাখতে চাইছেন।
হোয়াইট হাউসের সংস্কার কাজ যুবরাজকে দেখাতে ট্রাম্প ব্যস্ত ছিলেন। তিনি এমনকি আগের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছবির স্থানে রাখা অটোপেনের ছবিও দেখান এবং ২০২২ সালে বাইডেনের যুবরাজকে ঘুষি–মিলানো (ফিস্ট বাম্প) অভ্যর্থনাকে বিদ্রূপ করেন।
ট্রাম্প বলেন, তিনি যুবরাজকে যেকোনো সময় ফোন করতে পারেন, এবং দুজনই দেশ নিয়ে ভাবেন। সৌদি আরবের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থেকেও ট্রাম্প পরিবারের উল্লেখযোগ্য সুবিধা এসেছে। ট্রাম্প অর্গানাইজেশন সম্প্রতি সৌদি অংশীদারের সঙ্গে একটি প্রকল্পে ব্লকচেইনে ডিজিটাল টোকেন ব্যবহার করে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের সুযোগ চালু করেছে। জ্যারেড কুশনারের ফান্ডেও সৌদি আরবের একটি বিনিয়োগ তহবিল থেকে দুই বিলিয়ন ডলার এসেছে।
যুবরাজের সফর শেষে সৌদি প্রতিনিধিরা ট্রাম্পের স্বাক্ষরখচিত লাল উপহারের ব্যাগ নিয়ে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করেন।
তথ্যসূত্র: The New York Times