নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানী আগামী শুক্রবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগে এটি তাদের প্রথম সামনাসামনি আলোচনা হতে যাচ্ছে।
বুধবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প নিজেই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি দাবি করেন, মামদানীই আলোচনার জন্য অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে ভুলভাবে তাকে নিউইয়র্ক সিটির ‘কমিউনিস্ট মেয়র’ বলে উল্লেখ করেন। প্রকৃতপক্ষে মামদানী একজন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট, যা তিনি প্রকাশ্যেই বলে থাকেন।
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি এবং নিউইয়র্কে ফেডারেল তহবিল কমানোর হুমকির কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত মামদানী এক বিবৃতিতে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এমএস নাউ–এ এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নিউইয়র্কবাসীর বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরতেই তার দল হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তার ভাষ্য, নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শহরের মানুষ কী পরিস্থিতির মুখোমুখি, সেটিই তিনি প্রেসিডেন্টকে জানাতে চান।
নির্বাচনের আগে ট্রাম্প একাধিকবার মামদানীকে আক্রমণ করেন এবং তার জয় নিউইয়র্কের জন্য বিপজ্জনক বলে দাবি করেন। তার উপদেষ্টারাও বিভিন্নভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। শেষ মুহূর্তে তিনি মামদানীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এন্ড্রু ক্যুমোকে সমর্থনও দেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্প তাকে দক্ষ ও চৌকস রাজনীতিক বলেও মন্তব্য করেছেন বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা যায়।
রবিবার ট্রাম্প জানান, তিনি বৈঠকে আগ্রহী এবং নিউইয়র্কের জন্য ইতিবাচক সমাধান চান। নতুন মেয়র হিসেবে ১ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তুতিতে থাকা মামদানী বলেছেন, শহরের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোসহ কিছু বিষয়ে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় মিল খুঁজতে চান। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ভাড়া স্থির রাখা, বাস সেবা বিনামূল্যে করা এবং পাঁচটি সিটি–মালিকানাধীন গ্রোসারি স্টোর তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নিউইয়র্কবাসীর ক্ষতি হলে তিনি যে কোনো অবস্থায় সরকারের বিরুদ্ধেও দাঁড়াবেন। বিজয়োত্তর ভাষণে তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, নিউইয়র্কের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় তিনি সবসময় সোচ্চার থাকবেন এবং অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার অঙ্গীকার।
মামদানী উগান্ডায় জন্ম নেওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারে বড় হয়েছেন এবং শিশু বয়সে নিউইয়র্কে আসেন। ট্রাম্প তার মধ্যনাম কুয়ামে উল্লেখ করে বিদ্রূপ করলেও মামদানী জানান, তার বাবা ঘানার প্রথম প্রেসিডেন্ট কুয়ামে নক্রুমাহর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নামটি রেখেছিলেন।
বুধবার দিনের শুরুতে মামদানী পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশকে সঙ্গে নিয়ে একটি পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শন করেন। টিশ মেয়র হিসেবে তার মেয়াদেও দায়িত্বে থাকবেন বলে সম্মত হয়েছেন। দুজনই অন্যান্য শহরের মতো নিউইয়র্কে ন্যাশনাল গার্ড না পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
মেয়র-ইলেক্টের মুখপাত্র ডোরা পেকেক জানান, নতুন প্রশাসনের জন্য হোয়াইট হাউস বৈঠক একটি প্রথাগত আয়োজন। তিনি বলেন, আলোচনায় জননিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সুরক্ষা এবং নিউইয়র্কারদের জীবনযাত্রা–সংক্রান্ত নানাবিষয় তুলে ধরা হবে।