ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

হামলা বন্ধ না হলে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি: ডা. শফিকুর রহমান

হামলা বন্ধ না হলে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি: ডা. শফিকুর রহমান

সারাদেশে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও নির্বাচনী ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "আমাদের উদারতাকে দুর্বলতা ভাববেন না। যদি হামলা বন্ধ না হয়, তবে এর দায়ভার আপনাদেরই নিতে হবে এবং আমরা কঠোর হতে বাধ্য হব।"

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের এক জরুরি বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং জোটের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, নির্বাচনের জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতসহ জোটের নেতাকর্মীদের ওপর সুপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, "বিজয়ীদের বলবো, আপনাদের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করুন। গণতান্ত্রিক উত্তরণের শুরুটা যদি বিরোধী মত দমনের মাধ্যমে হয়, তবে তা হবে জাতির জন্য লজ্জাজনক। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই, তবে আক্রান্ত হলে প্রতিকার পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার আমাদের আছে।"

নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির আরও বলেন, বেশ কিছু আসনে ভোট গণনার সময় ব্যাপক অনিয়ম ও 'ঘষামাজা'র মাধ্যমে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আচরণকে 'পক্ষপাতমূলক' ও 'ফ্যাসিবাদী' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, একেক দলের সাথে একেক রকম আচরণ করা হচ্ছে যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তরুণ সমাজ রক্তের বিনিময়ে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট আপসহীন থাকবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে ১১ দলীয় জোটের এই কঠোর অবস্থান নতুন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নির্বাচনের পরপরই এমন সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ দেশের স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করবে। নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন পরবর্তী সংঘাত রোধে প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।