ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৫:৪৩ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

হাইকোর্টে মান্নার রিট খারিজ ও নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনিশ্চিত

হাইকোর্টে মান্নার রিট খারিজ ও নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনিশ্চিত

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি মো. মনজুর আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। এই রায়ের ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

আদালতে মাহমুদুর রহমান মান্নার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান। আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণখেলাপির তালিকায় নাম থাকায় তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তবে মান্নার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করবেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মাহমুদুর রহমান মান্নার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের নামে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়া বড়গোলা শাখা থেকে নেওয়া ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। গত ১০ ডিসেম্বর ব্যাংকটি ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যে একটি কল ব্যাক নোটিশ জারি করে। ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও তা পরিশোধ করা হয়নি।

জানা গেছে, ২০১০ সালে আফাকু কোল্ড স্টোরেজকে ২২ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ে নিয়মিত মুনাফা ও চার্জ পরিশোধ না করায় বকেয়ার পরিমাণ ৩৮ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটিতে মাহমুদুর রহমান মান্নার ৫০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং তিনি এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ এক দশকে ঋণ পরিশোধে কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি।

নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ঋণখেলাপি হলে তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। এই আইনি জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যেই মান্না উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বর্তমানে হাইকোর্টের রিট খারিজ হওয়ার পর তার নির্বাচনী ভবিষ্যৎ এখন আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।