এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

হরমুজে ইরানের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চায় যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজে ইরানের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চায় যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই আবারও আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে বৈঠকের আগে তেহরানের কাছে দুটি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চেয়েছে ওয়াশিংটন। এক, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বা গুলি চালানো সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। দুই, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে হবে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার ওমানে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে এ দুটি বিষয়কে প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সাম্প্রতিক হামলার পর শুধু ব্যক্তিগত আশ্বাস নয়, প্রকাশ্য ঘোষণা প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ইরান অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনাটি ছিল ‘ভুল’। তেহরানের দাবি, তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি বিচ্যুত কট্টরপন্থি গোষ্ঠী ওই হামলার জন্য দায়ী এবং এর উদ্দেশ্য ছিল চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগ ভণ্ডুল করা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ সত্ত্বেও উভয় পক্ষ আলোচনার পথ খোলা রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির সুযোগকে আর অপব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান নতুন করে আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে আগের যুদ্ধবিরতির পর্ব শেষ হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের নেতৃত্বের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক জাহাজে কোনো ধরনের হামলা না করার প্রকাশ্য অঙ্গীকার চাওয়া হয়েছে। এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ইরান যদি এ প্রতিশ্রুতি না দেয়, তাহলে তার পরিণতি ভালো হবে না।

ওমানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার।

এদিকে উত্তেজনা প্রশমিত করতে শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধি দল ইরান সফর করেছে। তাদের লক্ষ্য, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং নতুন সংঘাত এড়াতে আঞ্চলিক সমন্বয় জোরদার করা।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান, ওমান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা চালানোর বিষয়ে সম্মতি হয়।

এরই মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম কর্তৃত্বের দাবি আরও জোরালো করেছে। দেশটি ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ নামে নতুন একটি সংস্থা গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে নিরাপদ নৌ চলাচলের জন্য ‘সেফ প্যাসেজ পারমিট’ ইস্যু করতে পারে। একই সঙ্গে ইরান ও ওমানের সমন্বয়ে প্রণালির ব্যবস্থাপনা পরিচালনা এবং জাহাজ থেকে সম্ভাব্য সেবা ফি আদায়ের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

সপ্তাহের শুরুতে ওমানের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশ করা নৌপথ ব্যবহার করার সময় তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়। জুনের যুদ্ধবিরতির পর এটিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শুক্রবার নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।