ভোটার তালিকায় অসংগতির কারণে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আজ শনিবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এই ঘোষণা দেন। ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আজমল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিয়মানুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোটারের সমর্থন থাকলেও জমার তালিকায় থাকা ১০ জন প্রস্তাবক ও সমর্থকের মধ্যে ২ জন ওই নির্দিষ্ট আসনের ভোটার ছিলেন না। নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘিত হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হলেও তাসনিম জারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
চিকিৎসক ও উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত ৩১ বছর বয়সী তাসনিম জারা আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদে ছিলেন। তবে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে তার সাবেক দলের নির্বাচনী জোট গঠনের ইস্যুতে মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় তিনি দল ত্যাগ করে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেন। হলফনামায় তিনি শিক্ষকতা ও চিকিৎসাকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দেশ-বিদেশ থেকে প্রাপ্ত আয়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য জমা দিয়েছেন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী তাসনিম জারার বার্ষিক আয় দেশে ৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং দেশের বাইরে থেকে ৩ হাজার ২০০ ব্রিটিশ পাউন্ড। তার অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ২২ লাখ ৩০ হাজার ১৯০ টাকা হলেও কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। সম্পদের মধ্যে নগদ ১৬ লাখ টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ সোনা ও ব্যাংকে জমানো অর্থের বিবরণ দিয়েছেন তিনি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নেও তিনি যথাযথ আয়ের বিবরণ পেশ করেছেন।
প্রার্থীর হলফনামায় নির্ভরশীল হিসেবে তার স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহর নাম উল্লেখ রয়েছে। পেশায় উদ্যোক্তা খালেদ সাইফুল্লাহর দেশের ভেতরে কোনো আয় না থাকলেও দেশের বাইরে থেকে বছরে ৩৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড আয় করেন। এছাড়া শেয়ার ও ব্যাংক আমানত থেকেও তার আয়ের উৎস রয়েছে। এখন দেখার বিষয় আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাসনিম জারা তার প্রার্থিতা ফিরে পান কি না।