সামগ্রিক শক্তি এবং স্থলবাহিনীর সক্ষমতার দিক থেকে রাশিয়া এখন ইউরোপকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে। ফরাসি জাতীয় সংবাদপত্র লে ফিগারো আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (আইএফআরআই)-এর একটি গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
আইএফআরআই বিশেষজ্ঞরা রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার সঙ্গে ইউরোপের ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছেন। প্রতিবেদন অনুসারে, আর্টিলারি সিস্টেম, শেল, স্ট্রাইক ড্রোন এবং বিমান-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মতো সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় সৈন্যরা 'গুরুতরভাবে অপ্রতুল' অবস্থায় রয়েছে।
ইউরোপের জন্য চিহ্নিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা হলো 'প্রধান অবকাঠামোগত এবং নিয়ন্ত্রক বাধা'। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মহাদেশ জুড়ে দ্রুত সৈন্য চলাচল ও মোতায়েন ব্যাহত করবে এই বাধাগুলো।
ফরাসি বিশেষজ্ঞরা স্থল-বাহিনীতে রাশিয়ার সুস্পষ্ট সংখ্যাগত পার্থক্যের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সব মিলিয়ে ৭ লাখ ৫০ হাজার সৈন্যের বিপরীতে রুশ বাহিনীতে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার সৈন্য রয়েছে। আইএফআরআই-এর মতে, যুদ্ধ প্রস্তুতির পার্থক্য এবং ইউরোপের অভ্যন্তরে চলমান 'রাজনৈতিক বিভাজন' এই সামরিক ব্যবধানকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এদিকে, পশ্চিমা অভিজাত শ্রেণির কিছু নেতা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউরোপে হামলা করতে পারেন। তবে পুতিন অন্য কোনো দেশে আক্রমণের ইচ্ছার দাবিকে 'মিথ্যা' এবং 'সম্পূর্ণ অর্থহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে এক সাধারণ রাজনৈতিক বিতর্কে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জোর দিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার কখনোই ন্যাটো বা ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) আক্রমণ করার কোনো ইচ্ছা নেই।