বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য করে লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এই উদ্যোগে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা দেশটির আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতায় ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
রয়টার্স ও আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ৪৩টি দেশের সামরিক প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পর মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স নামে ১৪ সদস্যের জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জোটটির লক্ষ্য হবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক নৌপথ সুরক্ষিত রাখা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো।
সৌদি আরবের পাশাপাশি জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ওমান এখনো এই জোটে যোগ দেয়নি। তবে সৌদি আরব জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতে অন্য দেশও এই জোটে যুক্ত হতে পারবে।
বাংলাদেশের সদস্যপদ নিয়ে শনিবার পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো পৃথক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে গত ২২ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লোহিত সাগরে হুতিদের নৌ অবরোধের ঘোষণার নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক নৌপথ সচল রাখা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য সুরক্ষার পক্ষে অবস্থান প্রকাশ করেছিল। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের নিরাপত্তাকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
সৌদি আরব প্রকাশিত যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, জোটটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি কোনো দেশ, সামরিক জোট বা আন্তর্জাতিক সংস্থার বিরুদ্ধে নয়। সদস্য রাষ্ট্রগুলো সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সামুদ্রিক অভিযানে সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি সৌদি আরবে যৌথ কমান্ড, কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার, সামুদ্রিক অপারেশন সেন্টার এবং স্থায়ী সচিবালয় গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে অনিশ্চয়তা বাড়ার পর লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ বাণিজ্য এবং প্রায় ৩০ শতাংশ পণ্য এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবগামী তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর এই রুটের নিরাপত্তা নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে। হুতিদের দাবি, তাদের অবরোধ কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে তারা আরও কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যাসপাইডস নৌ নিরাপত্তা মিশন ইতোমধ্যে লোহিত সাগরে সক্রিয় রয়েছে। নতুন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে ওই মিশনের সমন্বয় কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।