সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের দেওয়া স্বীকৃতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আরব লীগ এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি। এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং পূর্ব আফ্রিকার দেশটির সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে আখ্যায়িত করেছে সংস্থা দুটি। গত শুক্রবার ইসরায়েল বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিলে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার নীতির পরিপন্থী। তিনি সতর্ক করে বলেন, একতরফা স্বীকৃতির মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ। এটি একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করছে যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে।
একই সুরে নিন্দা প্রকাশ করে জিসিসি সচিবালয় জানিয়েছে, সোমালিল্যান্ডের স্বাধীনতা মেনে নেওয়া সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত। জিসিসি মহাসচিব জাসেম আলবুদাইউই বলেন, এই স্বীকৃতি হর্ন অফ আফ্রিকা অঞ্চলে স্থিতিশীলতার ভিত্তি নষ্ট করবে এবং নতুন করে উত্তেজনা ও সংঘাতের পথ খুলে দেবে। তিনি সোমালিয়ার নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সদস্য দেশগুলোর অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও সোমালিল্যান্ড গত তিন দশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি। অঞ্চলটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হলেও সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার একে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মনে করে। সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে যেকোনো সরাসরি চুক্তি বা সংশ্লিষ্টতাকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখে মোগাদিশু। ইসরায়েলের এই আকস্মিক পদক্ষেপে পুরো আফ্রিকা অঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।