জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে জার্মানিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, দেশটিতে অপরাধমূলক রেকর্ডধারী সিরীয় নাগরিকদের ফেরত পাঠানো নিয়ে আলোচনা করার জন্য। সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
মের্জ বলেন, “আমরা অবশ্যই অপরাধীদের সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো অব্যাহত রাখব। এটাই আমাদের পরিকল্পনা, এবং এবার আমরা এটি বাস্তবায়নের দিকে এগোবো।” তিনি আরও জানান, জার্মানি সিরিয়ার স্থিতিশীলতায় সহায়তা করতেও আগ্রহী এবং শারার সঙ্গে আলোচনায় বসে “কীভাবে আমরা যৌথভাবে এ সমস্যার সমাধান করতে পারি” তা নির্ধারণ করতে চান।
প্রায় এক দশক আগে সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেলের আমলে জার্মানি শরণার্থীদের জন্য ‘ওপেন ডোর’ নীতি গ্রহণ করেছিল। সে সময় প্রায় ১০ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল জার্মানি, যাদের বড় অংশই ছিল গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা সিরীয় নাগরিক।
তবে পরবর্তী সময়ে জার্মানিতে ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান ঘটে, এবং বর্তমান চ্যান্সেলর মের্জের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ সিডিইউ দল সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নেয়। দলটি দ্রুত বহিষ্কার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
মের্জ বলেন, “আমি আবারও বলছি—সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটেছে। এখন আর জার্মানিতে আশ্রয় পাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।”
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণের পর আহমেদ আল-শারা একাধিক বিদেশ সফরে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সিরিয়ার সঙ্গে আগের মতো কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে, যেসব দেশ আসাদের সময় সিরিয়াকে এড়িয়ে চলেছিল।
সূত্র: রয়টার্স