সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে “সন্ত্রাসী” তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আল-শারার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় শুক্রবার আল-শারার নাম বৈশ্বিক সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দেয়। এর এক দিন আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও প্রতীকী নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে তার নাম প্রত্যাহার করে নেয়। এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মহল সিরিয়ার জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছে।
বছরের পর বছর গৃহযুদ্ধ ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে। ওয়াশিংটন ও জাতিসংঘ একইসঙ্গে আনাস হাসান খাত্তাবের নামও নিষেধাজ্ঞা তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। খাত্তাব অতীতে আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট যোদ্ধা ছিলেন, বর্তমানে তিনি সিরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভোটের পর যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ বলেন, এই সিদ্ধান্ত সিরিয়ার জন্য “একটি নতুন যুগের স্বীকৃতি”। তার ভাষায়, আসাদ সরকারের পতনের পর দেশটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে।
হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, ১০ নভেম্বর আল-শারা যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন, যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে। এটি হবে কোনো সিরীয় প্রেসিডেন্টের প্রথম হোয়াইট হাউস সফর।
এ বছরের মে মাসে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ট্রাম্প ও আল-শারার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। ওই সময় সিদ্ধান্ত সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর আসাদ যুগে আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই
মার্কিন কংগ্রেসও অবশিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে। সিনেট পররাষ্ট্র সম্পর্ক কমিটি জানিয়েছে, জাতিসংঘের পদক্ষেপকে তারা স্বাগত জানায় এবং সময় এসেছে সিরিয়ার অর্থনীতিকে আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা