যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকারি অচলাবস্থা অবসানের পথে। রবিবার সিনেটে ৬০–৪০ ভোটে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে, যা স্থবিরতা ভেঙে সরকারি কার্যক্রম পুনরায় চালুর পথ খুলে দিয়েছে।
এই ভোটে সিনেটের পর্যাপ্ত ডেমোক্র্যাট সদস্য একটি তহবিল প্রস্তাবে সমর্থন জানান, যা একাধিক সংস্থা ও কর্মসূচিকে পুরো অর্থবছরের জন্য অর্থায়ন করবে। বাকি সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম চালু থাকবে আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত।
সমঝোতার অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, অর্থ সংকটের শুরুতে যেসব সরকারি কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ডিসেম্বর মাসে ওবামা কেয়ার–সংক্রান্ত কর ছাড় (ACA ট্যাক্স ক্রেডিট) বাড়ানোর বিষয়ে সিনেট ফ্লোরে ভোটের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রশাসন।
রবিবার রাতে সিনেটে পাশ হওয়া এই অস্থায়ী বিলটি মূলত হাউসের অনুমোদিত একটি স্বল্পমেয়াদি ব্যয়ের প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। এটি কৃষি বিভাগ, ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স, সামরিক নির্মাণ প্রকল্প এবং কংগ্রেসের কার্যক্রমে অর্থ বরাদ্দের পথ তৈরি করবে। বাকি সংস্থাগুলোর জন্য অব্যাহত তহবিল নিশ্চিত থাকবে আগামী জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত।
সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থিউন ভোটের আগে বলেন, “৪০ দিনের দীর্ঘ এই অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে পারব বলে আমি আশাবাদী।”
এই চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সেনেটরদের মধ্যে দর–কষাকষি চলছিল। আলোচনায় অংশ নেন থিউন ছাড়াও অ্যাঙ্গাস কিং, জিন শাহিন ও ম্যাগি হাসান। উভয় দলের সিনেট বরাদ্দ কমিটির সদস্যরা মাসের পর মাস ধরে এই সমঝোতা খসড়া তৈরিতে কাজ করেন।
অচলাবস্থার ফলে নানা খাতে সংকট দেখা দিয়েছিল—খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি (SNAP) বিতরণে আইনি জটিলতা, বেতন না পাওয়া বিমান নিয়ন্ত্রকদের চাপ সামলাতে হাজারো ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্তসহ পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছিল।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী, চাকরি হারানো সব ফেডারেল কর্মী পুনর্বহাল হবেন এবং তাঁরা বকেয়া বেতন পাবেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে লিখিতভাবে কংগ্রেসকে জানাতে হবে, কতজন কর্মী ছাঁটাই হয়েছিলেন এবং তাঁদের কত পরিমাণ বকেয়া বেতন বাকি আছে।
এই চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, অন্তত জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত কোনো বিভাগ বা সংস্থায় নতুন করে কর্মী ছাঁটাই করা যাবে না। ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন, যিনি প্রায় দেড় লাখ ফেডারেল কর্মী প্রতিনিধিত্ব করেন, এই ধারা যুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তবে প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ এই সমঝোতার বিরোধিতা করছে। তাঁদের দাবি, ওবামা কেয়ার কর ছাড়ের মেয়াদ বৃদ্ধির নিশ্চয়তা না থাকলে এই চুক্তি যথেষ্ট নয়। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেন, “আমাদের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা রক্ষার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে—এটাই আমেরিকানদের প্রত্যাশা।”
হাউস সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিসও জানান, রিপাবলিকানদের এই ব্যয় বিল ডেমোক্র্যাটরা সমর্থন করবেন না, যদি এতে স্বাস্থ্যসেবা কর ছাড় নবায়নের নিশ্চয়তা না থাকে।
অন্যদিকে, কিছু মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট সদস্য ইতিমধ্যে সংকেত দিয়েছেন, সরকার দ্রুত পুনরায় চালু করতে তাঁরা চুক্তির পক্ষে ভোট দিতে প্রস্তুত। হাউস রিপাবলিকান নেতারাও বিষয়টি দ্রুত শেষ করতে আগ্রহী, কারণ সিনেট চুক্তি পাস করলে হাউস সপ্তাহের শেষ নাগাদ ভোটে যেতে পারে।
সিনেটের রিপাবলিকানদের আশা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদন পেলে হাউসেও যথেষ্ট সমর্থন পাওয়া যাবে। রবিবার রাতে ওয়াশিংটনের বাইরে একটি ফুটবল ম্যাচে উপস্থিত থেকে ট্রাম্প বলেন, “মনে হচ্ছে, অবশেষে আমরা এই অচলাবস্থা শেষ করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।”
এখন অপেক্ষা শুধু চূড়ান্ত ভোটের। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম প্রশাসনিক স্থবিরতার অধ্যায় শেষ হতে পারে।