ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

সার্ক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে একমত ঢাকা-কাঠমান্ডু

সার্ক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে একমত ঢাকা-কাঠমান্ডু

বাংলাদেশ ও নেপাল দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং দীর্ঘদিন স্থবির থাকা সার্ককে (SAARC) পুনরায় কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশ সংসদীয় কূটনীতি, জ্বালানি সহযোগিতা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধিতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারীর সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় সংগঠনটিকে পুনরুজ্জীবিত করে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে তিনি নেপালকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান, যার প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেন নেপালের রাষ্ট্রদূত।

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে সংসদীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়। নেপালের ফেডারেল পার্লামেন্টে বাংলাদেশ-নেপাল পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের প্রশংসা করে কায়সার কামাল জানান, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদেও শিগগিরই অনুরূপ একটি মৈত্রী গ্রুপ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তাঁর মতে, দুই দেশের সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ কার্যকর হলে সংসদীয় কূটনীতি জোরদার হওয়ার পাশাপাশি আইন প্রণয়ন, সুশাসন, দ্বিপক্ষীয় সফর এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।

আলোচনায় বাংলাদেশে নেপালের জলবিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব বিনিময়, পানি ও জ্বালানি সহযোগিতা, আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে বলেন, উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের পথে দেশটি বিভিন্ন সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতিসংঘের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদী।

বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া এবং নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন প্রতিক কার্কিও উপস্থিত ছিলেন।