নিউইয়র্কের সাফোক কাউন্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্তৃপক্ষের অবৈধ আটক মামলায় ৬০০-র বেশি অভিবাসীকে মোট ১১ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালে জামিন বা মামলা নিষ্পত্তির পরও যাদের কাউন্টি কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল, তাদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে সাফোক কাউন্টি ও কাউন্টির শেরিফ অফিসকে দায়ী করা হয়েছে।
লাতিনোজাস্টিস পিআরএলডিইএফ-এর উপ–আইন উপদেষ্টা হোসে পেরেজ বলেন, “এই রায় দীর্ঘদিনের অপেক্ষিত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে। জুরি বোর্ড স্বীকার করেছে যে সাফোক কাউন্টির পদক্ষেপ ১৪তম সংশোধনীর আওতায় প্রদত্ত মৌলিক ন্যায়বিচারের অধিকারের পরিপন্থী ছিল।”
মামলার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৭ সালে, যখন গুয়াতেমালার এক অভিবাসী এবং লং আইল্যান্ডের বাসিন্দা সেন্ট্রাল আইসলিপে গ্রেপ্তার হন। অভিযোগে বলা হয়, সাফোক কাউন্টির পুলিশ তাকে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তার কাজিন ১,০০০ ডলার জামিন দেওয়ার পরও তাকে মুক্তি না দিয়ে আইসিই-এর অনুরোধে কারাগারে আটকে রাখে।
পরে তাকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ভারিক স্ট্রিট ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে নিউ জার্সির বারগেন কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরুতর প্রভাব পড়েছে; তিনি স্বাধীনতা হারিয়েছেন, মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেছেন এবং জীবনের স্বাভাবিক আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সাফোক কাউন্টির কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে অভিবাসীদের নির্ধারিত মুক্তির পরও আটক রেখে তাদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য।
এই মামলার রায় অভিবাসী অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কাউন্টিতেও ন্যায়বিচারের দাবি তোলার পথ তৈরি করবে।