আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা রুখতে মেটা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি এই চিঠি পাঠিয়ে ফেসবুকসহ মেটার সব প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ-সংক্রান্ত বিষয়বস্তুর ওপর বিশেষ নজরদারি চালানোর দাবি জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এই সময়ে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো এবং সহিংসতায় উসকানি দেওয়া হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে বাস্তব জীবনেও।
চিঠিতে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর প্রসঙ্গটি উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদি মারা যান। তার এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই ঢাকার প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার ও ছায়ানট ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সরকার মনে করছে, এসব ঘটনা ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়ানো উসকানি ও ঘৃণ্য প্রচারণারই একটি অংশ।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি তাদের চিঠিতে অভিযোগ করেছে যে, আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী প্রকাশ্যে এই হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন দিচ্ছে এবং গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সহিংসতায় প্ররোচনা দিচ্ছে। নাগরিক সমাজ ও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও মেটা এসব বিতর্কিত অ্যাকাউন্ট বা কন্টেন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। চিঠিতে মেটাকে বাংলা ভাষার আধেয় মডারেশন জোরদার করা, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্ত্রাস বা সহিংসতার উসকানি দেখলে তা সরাসরি রিপোর্ট করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি জানান, আজ শনিবার থেকেই জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি ০১৩০৮৩৩২৫৯২ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এবং notify@ncsa.gov.bd ঠিকানায় ই-মেইলের মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ গ্রহণ শুরু করেছে। দেশের স্থিতিশীলতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে সরকার।