ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৭:৩৪ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

সত্যের স্পিরিটকে আদেশ দিয়ে থামানো যায় না : তারেক রহমান

সত্যের স্পিরিটকে আদেশ দিয়ে থামানো যায় না : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, ২০১৫ সাল থেকে তাঁর কথা বলার অধিকার সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, দেশের কোনো পত্রিকা, টিভি বা সোশ্যাল মিডিয়া যেন তাঁর কোনো বক্তব্য প্রকাশ না করে, এমন নির্দেশনা জারি ছিল। তবে এই 'চাপিয়ে দেয়া নীরবতার' মধ্যেও তিনি অধিকার, গণতন্ত্র ও মানুষের ন্যায্য দাবির পক্ষে লড়াই চালিয়ে গেছেন। তাঁর ভাষায়, 'সত্যের স্পিরিটকে আদেশ দিয়ে থামানো যায় না।'

দীর্ঘ ১৬ বছরের 'অন্ধকার সময়' প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এই সময়টা 'পতিত সরকারের' রাজনৈতিক বিরোধীদের জন্য ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা, যেখানে মিথ্যা মামলা, নির্যাতন এবং ভয়কে সংস্কৃতি বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, এই সময়ে অসংখ্য পরিবার তাদের প্রিয়জনদের অপেক্ষায় থেকেছে, যারা আর ঘরে ফিরে আসেনি।

বিএনপির ওপর সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাবি করেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, হেফাজতে মৃত্যু এবং মিথ্যা মামলায় বিএনপির নেতা-কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরেছে বিএনপির ঘরেই।

তবে নিপীড়নের শিকার শুধু বিএনপি ছিল না বলে তিনি জানান। ছাত্র, সাংবাদিক, লেখক, পথচারী, সাধারণ মানুষ—সবাই সেই 'ভয়ংকর পরিবেশের ক্ষত বয়ে বেড়িয়েছে', যেখানে মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং মত প্রকাশের অধিকারের মতো মৌলিক মানবাধিকার হুমকির মুখে ছিল।

খালেদা জিয়াকে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ:

তারেক রহমান তাঁর মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে পুরো অন্ধকার সময়ের 'ধৈর্য ও প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় প্রতীক' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, মিথ্যা মামলা, কারাবাস এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে নিঃশেষ করে দেওয়ার চেষ্টা ছিল কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রতিফলন। তবুও তিনি গণতান্ত্রিক আদর্শ থেকে সরে যাননি।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের পথ:

নিজের ব্যক্তিগত কষ্টের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, তাঁর মা নিজ হাতে তাঁর ছেলেকে জেলে নেওয়া ও নির্যাতনের মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেছেন, এবং পরিবার তাদের আরেক ছেলেকে হারিয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, 'ইতিহাসের একটা সত্য আছে—কষ্ট মানুষকে সবসময় তিক্ত করে না। কখনো কখনো কষ্ট মানুষকে আরও মহান করে তোলে।' তিনি শিখিয়েছেন, যে অন্যায় তাঁরা সহ্য করেছেন, তা যেন আর কারও জীবনে না আসে, এবং দেশকে বদলাতে হলে ঘৃণার পথ নয়, ন্যায়, নৈতিকতা আর ক্ষমাশীলতার পথই ভবিষ্যত গড়বে।

ঐক্যবদ্ধ দেশ গড়ার আহ্বান:

তারেক রহমান বলেন, আজ বাংলাদেশের প্রয়োজন রাজনীতির চেয়েও বড় কিছু—একটি ঐক্যবদ্ধ দেশ, যেখানে সবার জন্য মানবাধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে, কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে এবং বিরোধী মত গণতন্ত্রের অংশ হবে।

প্রতিশোধের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, বিএনপি 'সমাধানের পথে বিশ্বাসী'। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, 'কোনো বাংলাদেশিকে রাষ্ট্রের ভয়ে বাঁচতে হবে না, তা সে সরকারের সমর্থক হোক বা বিরোধী।'

মানবাধিকার দিবসের গুরুত্ব:

১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবসের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবরার ফাহাদ, মুশতাক আহমেদ, ইলিয়াস আলী, সাজেদুল ইসলাম সুমন, সাগর-রুনিসহ অসংখ্য শহীদের গল্প মনে রাখার আহ্বান জানান, যেন ভবিষ্যতে এমন নিপীড়ন আর দায়মুক্তি ফিরে না আসে।

তিনি উপসংহারে বলেন, বিএনপি মারাত্মক ক্ষতি সহ্য করেছে, কিন্তু ভেঙে যায়নি; বরং সত্য, ন্যায়, জবাবদিহি, পুনর্মিলন, আর আইনের শাসনে বিশ্বাস রেখে আরও দৃঢ় হয়েছে। তাঁরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে প্রতিটি মানুষের কণ্ঠ, অধিকার ও জীবন মূল্যবান এবং মানবাধিকার হবে ভবিষ্যতের ভিত্তি।