ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

সংবিধান সংস্কারের আগেই পুরোনো নিয়মে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

সংবিধান সংস্কারের আগেই পুরোনো নিয়মে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

বাংলাদেশে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ অনুমোদিত হলেও নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে বিদ্যমান সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী। ফলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো কার্যকর হওয়ার আগেই দেশ নতুন রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে।

বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গোপন ভোটের কোনো বিধান নেই। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যরা স্বাক্ষরযুক্ত ব্যালটের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ভোট দেবেন। আর একজন প্রার্থী থাকলে ভোট গ্রহণ ছাড়াই তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন থাকা দলটির মনোনীত প্রার্থীর বিজয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীের পরামর্শ ছাড়াই মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব পরিবর্তন কার্যকর করতে সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন অপরিহার্য।

সরকারি দল ইতোমধ্যে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সংসদীয় কমিটি গঠন করেছে। যদিও বিরোধী দলগুলো এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি। তাদের অবস্থান হলো, নতুন করে সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য পৃথক সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।

রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতি শুরু করেছে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইতিহাসে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ সালে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমান আইন অনুযায়ী প্রকাশ্য ভোটের বিধান বহাল থাকায় বিরোধী জোটের প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনাও খুবই কম বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

জুলাই সনদে ভবিষ্যতে সংসদের উভয় কক্ষের মোট ৪৫০ সদস্যের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তাব রয়েছে, যা রাষ্ট্রপতি পদকে অধিকতর নিরপেক্ষ ও কার্যকর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই করা হয়েছে। কিন্তু উচ্চকক্ষ এখনও গঠিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক সংশোধনীও পাস হয়নি।

এ কারণে বাংলাদেশের সামনে এখন একটি দ্বৈত বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। একদিকে দেশ রাজনৈতিক সংস্কারের একটি উচ্চাভিলাষী রূপরেখা অনুমোদন করেছে, অন্যদিকে সেই সংস্কার বাস্তবায়নের আগেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে পুরোনো আইন ও সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনেই।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংস্কার বিতর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। কারণ, আগামী দিনে রাষ্ট্রপতি পদ কতটা ক্ষমতাবান হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে সংবিধান সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা এবং সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর।