ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

শিশুদের প্রতি বছরে একটি গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শিশুদের প্রতি বছরে একটি গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশকে আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে শিশুদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশজুড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে শিশুদের প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি গাছ শুধু পরিবেশ রক্ষা করে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতেও সহায়তা করে।

বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানের আগে তিনি একটি নিমগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির সূচনা করেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই কর্মসূচির আওতায় দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একযোগে প্রায় দুই লাখ গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। সরকারের ভাষ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা এবং শিশুদের মধ্যে প্রকৃতিবিষয়ক সচেতনতা তৈরিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। গাছটি স্কুলে, বাড়ির আশপাশে কিংবা সুবিধাজনক যেকোনো স্থানে লাগানো যেতে পারে। পাশাপাশি গাছ কীভাবে অক্সিজেন উৎপাদন করে এবং মানুষের জীবনে কী ধরনের উপকার বয়ে আনে, সে বিষয়ে শিশুদের নিজ উদ্যোগে জানারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, একটি গাছের বেড়ে ওঠার সঙ্গে শিশুরাও নতুন নতুন বিষয় জানতে পারবে। স্কুলের গাছ একদিন তাদের ছায়া দেবে, আর বাড়ির গাছ পরিবেশকে শীতল ও বাসযোগ্য করে তুলবে। এভাবেই পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ আগামী প্রজন্মের মধ্যে তৈরি হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক গাছের চারা রোপণ একটি স্মরণীয় উদ্যোগ। দেশের সবুজায়ন কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করতে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও প্রয়োজন।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী প্রাণ ও প্রকৃতিবিষয়ক শিশু শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।