ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২০ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৯:২৭ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

শরিফ ওসমানের মৃত্যুতে দেশব্যাপী সহিংসতার নিন্দা বিএনপির

শরিফ ওসমানের মৃত্যুতে দেশব্যাপী সহিংসতার নিন্দা বিএনপির

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এই পরিস্থিতিকে একটি চিহ্নিত গোষ্ঠীর পরিকল্পিত উদ্যোগ বলে মনে করেন যা দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণে বাধা সৃষ্টি করছে।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তার আগে সেখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব জানান যে শরিফ ওসমান বিন হাদি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর জন্য মির্জা ফখরুল তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি করেন।

এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। দৈনিক প্রথম আলো এবং ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারসহ একাধিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর পরিচালিত হয়েছে যা সাংবাদিকদের নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরের উপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে যেখানে ছায়ানট এবং উদীচীর মতো প্রতিষ্ঠানগুলি হামলা ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছে।

মিজরা ফখরুল আরও উল্লেখ করেন যে খুলনায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের ভবন আক্রান্ত হয়েছে এবং ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় একটি নির্দিষ্ট বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ঘটেছে। ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারেও ভাঙচুর সংঘটিত হয়েছে এবং উত্তরা এলাকার দোকানপাটে হামলা সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতেও অগ্নিসংযোগের কাজ চলেছে। চট্টগ্রাম এবং রাজশাহীসহ দেশের অন্যান্য জেলাতেও সহিংসতার সংবাদ পাওয়া গেছে।

মির্জা ফখরুল এই সমস্ত ঘটনাকে ঘৃণ্য ও অনুচিত বলে আখ্যায়িত করে অভিযোগ করেন যে একটি পুরাতন সংগঠিত গোষ্ঠী দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অর্জন নস্যাৎ করতে চাইছে এবং নতুনভাবে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

বর্তমান সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে মহাসচিব উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন যে এই সমস্ত ঘটনা সরকারের সামনেই সংঘটিত হলেও জনগণ মনে করছে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না। এই পরিস্থিতি দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

শরিফ ওসমানের মৃত্যুর প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে নিন্দা জানিয়েছে এবং দোষীদের বিচারের দাবি করেছে। কিন্তু সহিংসতা অব্যাহত থাকায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুল দেশের জনগণকে আহ্বান জানান যে শান্তিকামী এবং গণতান্ত্রিক শক্তিগুলি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করুক এবং রক্তের মূল্যে অর্জিত দেশ এবং গণতন্ত্র রক্ষা করুক।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।