ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২১ নভেম্বার ২০২৫, ১১:৪৩ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

শক্তিশালী ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে কাঁপলো বাংলাদেশ

শক্তিশালী ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে কাঁপলো বাংলাদেশ

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৭। উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী–ঘোড়াশাল এলাকার কাছে, যা ঢাকার খুব কাছেই হওয়ায় কম্পন ছিল অস্বাভাবিকভাবে তীব্র।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা জানান, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল মাধবদী এলাকায়। অন্যদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) মাত্রা ৫.৫ বলে উল্লেখ করেছে। ইউরোপিয়ান সিসমোলোজিক্যাল সেন্টার (ইএসসি) ৬ মাত্রা রেকর্ড করেছে। পার্শ্ববর্তী ভারতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে—বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ রুবাইয়াত কবির বলেন, মধ্যম মাত্রার হলেও কম্পনের তীব্রতা ছিল গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। উৎপত্তিস্থল অগভীর হওয়ায় এবং ঢাকার কাছে থাকায় ঝাঁকুনি অস্বাভাবিকভাবে বেশি অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন তীব্র ঝাঁকুনির ঘটনা এর আগে দেখা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা

কম্পনের সময় রাজধানীতে আতঙ্কে মানুষ ঘর-বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী—

পুরান ঢাকার বংশাল থানা এলাকার কসাইটুলিতে পাঁচ তলা ভবনের রেলিং নিচে পড়ে তিনজন পথচারীর মৃত্যু হয়েছে।


গাবতলীতে একটি ভবনের ছাদ ধসে তিনজন গুরুতর আহত হন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসিন হলে আতঙ্কে লাফ দিতে গিয়ে চারজন ছাত্র আহত হয়েছেন।


গাজীপুরে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে একটি গার্মেন্টসের প্রায় ৩০ কর্মী আহত হয়েছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভবনে ফাটল, ইট খসে পড়া, পলেস্তারার অংশ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শন করে জানায়, কয়েকটি ভবনে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আতঙ্ক ছড়ানোর কারণে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। আরমানিটোলা কসাইটুলির কথিত ‘আট তলা ভবন ধস’–এর খবর সরেজমিনে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পটি ইন্দো-বার্মা টেকটোনিক প্লেট অঞ্চলের প্রভাবজনিত। মাত্রা মাঝারি হলেও এ ধরনের অগভীর উৎপত্তিস্থলের কম্পন বেশি ধ্বংসাত্মক হতে পারে। তারা আতঙ্ক না ছড়িয়ে কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেন—

কম্পনের সময় শক্ত টেবিল বা আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া

গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ রাখা

লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামা

ভবনে ফাটল দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া

দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চমাত্রার বলে উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা ভবন নির্মাণে নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।