ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলমন্ত্র হবে ‘মহানবীর মহান আদর্শ ও ন্যায়পরায়ণতা’: তারেক রহমান

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলমন্ত্র হবে ‘মহানবীর মহান আদর্শ ও ন্যায়পরায়ণতা’: তারেক রহমান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ঐতিহাসিক ভাষণে দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রচারিত এই ভাষণে তিনি ঘোষণা করেন, জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলমন্ত্র হবে ‘মহানবীর মহান আদর্শ ও ন্যায়পরায়ণতা’। একই সঙ্গে তিনি অতীতের রাজনৈতিক ভুলত্রুটির জন্য জনগণের কাছে অকপটে দুঃখ প্রকাশ করেন, যা দেশের রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অতীতের ভুল ও আগামীর শপথ

তারেক রহমান তার ভাষণে বলেন, বিএনপি অতীতে একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। সেই সময়গুলোতে শাসনকার্যে অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুল বা বিচ্যুতি হয়ে থাকলে তার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “অতীতের সেই ভুলগুলো থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য এখন সেই অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা।”

দুর্নীতি দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ ও জবাবদিহিতা

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট চেয়ে তারেক রহমান জনগণের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা সফল হবে না যদি দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা না যায়। তাই আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি দমনে সর্বোচ্চ কঠোরতা প্রদর্শন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো আপস করা হবে না। রাষ্ট্র ও সরকারকে জনগণের কাছে শতভাগ দায়বদ্ধ রাখার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

সাংসদদের ওপর ব্যক্তিগত নজরদারি

ভোটের পরদিন থেকেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জনগণের সেবা নিশ্চিত করছেন কি না, তা সরাসরি তদারকি করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ এই নেতা। তিনি বলেন, “আপনাদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমি নিজে নেব।” ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারিকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে ঘোষণা করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তারেক রহমানের এই ভাষণকে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং কৌশলী হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে জাতির কাছে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করার বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের মাঝে দলের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘মহানবীর আদর্শ’ ও ‘ন্যায়পরায়ণতা’কে মূলমন্ত্র হিসেবে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন দেশের ধর্মপ্রাণ বিশাল জনগোষ্ঠীকে আশ্বস্ত করেছেন, অন্যদিকে ‘দুর্নীতি দমনে কঠোরতা’র কথা বলে সুশীল সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের মন জয় করার চেষ্টা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং এটি বিএনপির জন্য নিজেদের ইমেজ পুনরুদ্ধারের বড় পরীক্ষা। তারেক রহমানের এই সরাসরি তদারকির ঘোষণা এবং জবাবদিহিতার অঙ্গীকার যদি বাস্তবে রূপ পায়, তবে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারে। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ সময় পর ব্যালট যুদ্ধের ময়দানে ভোটাররা এই নতুন অঙ্গীকারের ওপর কতটা আস্থা রাখেন।