এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বার ২০২৫, ০১:৫৬ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

রাজনীতি থেকে এলিস স্টিফানিকের নাটকীয় বিদায়

রাজনীতি থেকে এলিস স্টিফানিকের নাটকীয় বিদায়

ওয়াশিংটন প্রতিনিধি: মার্কিন রাজনীতির অন্যতম আলোচিত মুখ এবং রিপাবলিকান পার্টির উদীয়মান তারকা এলিস স্টিফানিক আকস্মিকভাবে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বিরতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার তিনি জানান, নিউইয়র্কের গভর্নরের দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি আগামী বছর কংগ্রেস নির্বাচনেও তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। স্টিফানিকের এই সিদ্ধান্ত রিপাবলিকান শিবিরে যেমন বিস্ময় তৈরি করেছে, তেমনি নিউইয়র্কের নির্বাচনী লড়াইয়ের চিত্রও পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

৪১ বছর বয়সী এই নেত্রী গত এক দশকে মার্কিন রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন। হার্ভার্ডে শিক্ষিত স্টিফানিক যখন প্রথম কংগ্রেসে যোগ দেন, তখন তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ নারী সদস্য। শুরুতে মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিতি থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম বিশ্বস্ত ও কট্টর অনুসারী হিসেবে গড়ে তোলেন। ট্রাম্পের প্রভাবে তিনি হাউসের উচ্চপদস্থ নেতৃত্বে জায়গা করে নিয়েছিলেন এবং জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্টিফানিক বেশ কিছু রাজনৈতিক ধাক্কার সম্মুখীন হন। হাউস স্পিকার মাইক জনসনের সঙ্গে মতবিরোধ এবং জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত পদের মনোনয়ন ট্রাম্প কর্তৃক প্রত্যাহার করে নেওয়া তার জন্য ছিল বড় একটি ধাক্কা। এছাড়া নিউইয়র্কের গভর্নর পদের লড়াইয়ে ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থন না পাওয়া এবং দলের অভ্যন্তরে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রুস ব্লেকম্যানের উত্থান তাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলে দেয়।

নিজের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্টিফানিক জানান, বর্তমানে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে লিপ্ত হওয়া তার কাছে কার্যকর মনে হচ্ছে না। একইসঙ্গে নিজের চার বছর বয়সী সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পারিবারিক গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে তার ঘনিষ্ঠজনদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা এবং ট্রাম্পের অসংলগ্ন আচরণের কারণেই তিনি এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

স্টিফানিকের প্রস্থানে নিউইয়র্কের বর্তমান গভর্নর ক্যাথি হকুলের জন্য পথ অনেকটা সহজ হয়ে গেল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ডেমোক্র্যাটরা এই ঘটনাকে রিপাবলিকানদের পরাজয় স্বীকার হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা এখন ব্রুস ব্লেকম্যানকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক জীবন থেকে আপাতত বিদায় নিলেও ট্রাম্পের সঙ্গে স্টিফানিকের সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তিনি ব্যবসায়িক ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।