আন্তর্জাতিক মহলের যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা ও কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে ফের বড় ধরনের রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ হামলায় প্রাণহানির ঘটনাটি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। একইসময়ে গাজা উপত্যকায়ও ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে।
শরণার্থী শিবিরে হানা, নিহত ১৩
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সিডনের কাছে অবস্থিত ‘আইন আল-হিলওয়েহ’ (Ain el-Hilweh) ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি ড্রোনের আঘাতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। জনাকীর্ণ এই শিবিরে হামলার পর সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা হামাসের একটি গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে, যা প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হতো। তবে ইসরায়েলের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস। সংগঠনটি জানিয়েছে, হামলার শিকার স্থানটি কোনো সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং সেটি ছিল সাধারণ একটি খেলার মাঠ।
স্কুল শিক্ষার্থীসহ আহত ১১
শরণার্থী শিবিরের বাইরেও দক্ষিণ লেবাননের তিইরি (Tiri) গ্রামে একটি যাত্রীবাহী গাড়ি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে গাড়ির চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ভয়াবহ এই হামলায় পাশ দিয়ে যাওয়া একটি স্কুল বাসের জানলা ভেঙে ১১ জন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থী।
গাজায় থামছে না মৃত্যুর মিছিল
লেবাননের পাশাপাশি গাজাতেও হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। আজ খান ইউনিস ও রাফাহ এলাকায় নতুন করে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে, যাতে অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আল জাজিরার তথ্যমতে, গাজায় তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চলার কথা থাকলেও, বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা ২৮০ ছাড়িয়েছে।
নতুন করে উচ্ছেদ আতঙ্ক
এই হামলার পরপরই দক্ষিণ লেবাননের আরও দুটি গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ (Evacuation warning) দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, এই সতর্কতা এবং শরণার্থী শিবিরে হামলা—ইসরায়েলের নতুন কোনো বড় সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অবিলম্বে দু'পক্ষের মধ্যে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্রঃ আলজাজিরা