ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন ভিসা পাওয়ার শর্তাবলী আরও কঠোর করে নতুন করে সাতটি দেশের নাম তালিকায় যুক্ত করেছে। এর মধ্যে পাঁচটি দেশই আফ্রিকার। এখন থেকে এসব দেশের পাসপোর্টধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন করতে হলে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত বা বন্ড জমা দিতে হবে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি ভুটান, বতসোয়ানা, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, গিনি, গিনি-বিসাউ, নামিবিয়া এবং তুর্কমেনিস্তানকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত বছরের আগস্ট ও অক্টোবরে মৌরিতানিয়া, সাও টোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপে, তানজানিয়া, গাম্বিয়া, মালাউই এবং জাম্বিয়াকে একই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এখন মোট ১৩টি দেশের নাগরিকদের ওপর এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কেউ যেন অবৈধভাবে দেশটিতে থেকে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই মোটা অঙ্কের বন্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্ডের পরিমাণ ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে এই অর্থ জমা দিলেই যে ভিসা নিশ্চিত হবে এমন কোনো গ্যারান্টি নেই। যদি আবেদনকারীর ভিসা বাতিল হয় অথবা তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, তবে এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
নতুন এই নিয়মের ফলে দরিদ্র দেশগুলোর সাধারণ মানুষের জন্য মার্কিন ভিসা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, শুধু এই বন্ড নয়, ট্রাম্প প্রশাসন গত কয়েক বছরে ভিসা প্রক্রিয়ায় আরও অনেক পরিবর্তন এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাধ্যতামূলক সরাসরি সাক্ষাৎকার প্রদান, কয়েক বছরের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ইতিহাস জমা দেওয়া এবং আবেদনকারী ও তার পরিবারের সদস্যদের পূর্বের ভ্রমণ ও বসবাসের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা।