যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের মধ্যে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণের হার নিয়ে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত ১২০টি দেশের এই তালিকায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের অবস্থান ১৯তম। তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর ৫৪.৮ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
ট্রাম্পের শেয়ার করা এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভুটান, যেখানে ৮১.৪ শতাংশ পরিবার মার্কিন সরকারের সুবিধা নিয়ে থাকে। এ ছাড়া আফগানিস্তান রয়েছে তালিকার ষষ্ঠ স্থানে এবং পাকিস্তান ও নেপাল রয়েছে যথাক্রমে ৬০ ও ৯০তম অবস্থানে। তবে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, ভারত ও শ্রীলঙ্কার অভিবাসীদের নাম এই তালিকায় নেই, যার অর্থ দেশ দুটির অভিবাসী পরিবারগুলো অত্যন্ত নগণ্য হারে সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০০০ সালে যেখানে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৪০ হাজার, ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজারে। জনসংখ্যা ৫৬৯ শতাংশ বাড়লেও তাদের গড় আয় ও জীবনযাত্রার মান সেভাবে উন্নত হয়নি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একটি সাধারণ এশীয় পরিবারের গড় বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ ডলার হলেও বাংলাদেশি পরিবারের ক্ষেত্রে তা মাত্র ৭৮ হাজার ৪০০ ডলার।
ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিরা পিছিয়ে আছেন। সামগ্রিক এশীয় গড় আয়ের তুলনায় বাংলাদেশিদের আয় অনেক কম এবং দারিদ্র্যের হারও তুলনামূলক বেশি। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এশীয়দের সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার ১০ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে তা ১৪ শতাংশ। গবেষকদের মতে, এই তুলনামূলক নিম্ন আয় এবং উচ্চ দারিদ্র্য হারের কারণেই বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ট্রাম্পের প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ভুটান ছাড়াও ইয়েমেন, সোমালিয়া এবং ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলো সরকারি সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। বিপরীতে বারমুডা, সৌদি আরব এবং ইসরায়েলের মতো দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা সবচেয়ে কম হারে সরকারি সহায়তা গ্রহণ করেন। অভিবাসন নীতি নিয়ে কড়াকড়ির আবহে ট্রাম্পের এই পরিসংখ্যান প্রকাশের বিষয়টি দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।