যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন, যার প্রভাব পড়বে প্রযুক্তি খাতের এইচ-ওয়ানবি ভিসা থেকে শুরু করে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া পর্যন্ত। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সম্প্রতি এইচ-ওয়ানবি ভিসার লটারি পদ্ধতি বাতিল করে উচ্চ বেতনের দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এর পাশাপাশি প্রতিটি আবেদনের জন্য ১ লাখ ডলারের নতুন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই পদক্ষেপ মার্কিন কর্মীদের কর্মসংস্থান ও মজুরি সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।
একই সাথে বিদেশি পর্যটক ও প্রবাসীদের জন্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডধারীসহ সকল অ-মার্কিন নাগরিকের জন্য বিমান ও সমুদ্রবন্দরে ফেসিয়াল রিকগনিশন বা মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের জন্য ইএসটিএ আবেদনের সময় এখন থেকে গত ৫ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক হচ্ছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে জারি করা এক নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কড়াকড়ি আরোপ করেছে সিবিপি।
সবচেয়ে আলোচিত ঘোষণা হিসেবে এসেছে ১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ট্রাম্প গোল্ড কার্ড। ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের বিনিয়োগের বিনিময়ে দ্রুত স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বা গ্রিন কার্ড পাওয়া যাবে। এই কার্ডধারীরা ইবি-ওয়ান বা ইবি-টু ক্যাটাগরিতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের আইনি বৈধতা পাবেন। অর্জিত অর্থ কর হ্রাস ও জাতীয় ঋণ পরিশোধে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পরীক্ষাকেও বেশ কঠিন করা হয়েছে। আগে যেখানে ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো, এখন সেখানে ১২৮টি সম্ভাব্য প্রশ্নের তালিকা থেকে ২০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। পাস করার জন্য অন্তত ১২টি সঠিক উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক। নতুন পদ্ধতিতে ভৌগোলিক প্রশ্নের চেয়ে সরকারি কাঠামো ও নাগরিক মূল্যবোধের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের মতে, যারা মার্কিন মূল্যবোধ ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ এবং পুরোপুরি মিশে যেতে পারবেন, কেবল তাদের জন্যই নাগরিকত্ব সংরক্ষিত রাখা উচিত।