এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০২ নভেম্বার ২০২৫, ১১:৪৩ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বিতর্কিত মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বিতর্কিত মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের সমসাময়িক রিপাবলিকান রাজনীতির অন্যতম প্রধান ইস্যু হলো অবৈধ অভিবাসনের বিরোধিতা। দীর্ঘদিন ধরেই দলটির নেতারা দাবি করে আসছেন, দেশের নিরাপত্তা ও টিকে থাকার জন্য সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং অননুমোদিত অভিবাসীদের কঠোরভাবে দমন করা জরুরি।

তবে সাধারণ আলোচনায় প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে আরেকটি দিক—দলের অনেক নেতা কেবল অবৈধ নয়, বৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধেও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন।

গত মে মাসে নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক রস ডাউথ্যাটের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, অভিবাসীরা—তারা বৈধ হোক বা অবৈধ—আমেরিকার “সামাজিক সংহতি” ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাঁর ভাষায়, নতুন অভিবাসীরা সমাজে এমন এক ধরনের পার্থক্য তৈরি করছে, যা “সামাজিক ঐক্য” দুর্বল করছে।

ছয় মাস পর, ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপিতে টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসনও কমানো প্রয়োজন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানায়, ভ্যান্স মন্তব্য করেন, “আমাদের অভিবাসনের সামগ্রিক সংখ্যা অনেক কমিয়ে আনতে হবে।” তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যত অভিবাসী প্রবেশ করছে, তার চেয়ে “অনেক কম” সংখ্যাই আদর্শ, যদিও তিনি কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেননি।

ভ্যান্স দাবি করেন, দেশটি এখনো যৌথ জাতীয় পরিচয় পুরোপুরি গড়ে তুলতে পারেনি। তাঁর মতে, নতুন অভিবাসীদের প্রবাহ সেই প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করছে, তাই অতিরিক্ত অভিবাসন “সতর্কভাবে” বিবেচনা করা উচিত।

এই বক্তব্যের সময়েই নিউইয়র্ক পোস্টের সাংবাদিক মিরান্দা ডিভাইনের পডকাস্টে ভ্যান্স বলেন, তিনি “মেল্টিং পট” বা বহুজাতিক সংস্কৃতির ধারণাকে সমর্থন করেন না। তাঁর ভাষায়, “আমেরিকান নাগরিকদের জন্য এটা একদম স্বাভাবিক যে তারা বলতে পারেন, ‘আমি এমন প্রতিবেশীতে থাকতে চাই যেখানে আমার মতো মানুষের বসবাস। আমি চারটি অপরিচিত পরিবারের পাশে থাকতে চাই না।’ আমাদের অভিবাসন নীতি যে এই বিভাজনকে উৎসাহিত করেছে, সেটা এক বিশাল ব্যর্থতা।”

ভ্যান্সের এই মন্তব্যের পর প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ কেভিন ক্রুজ ব্লুস্কাই প্ল্যাটফর্মে লেখেন, “এটা হুবহু সেই যুক্তি, এমনকি একই ভাষাও, যা একসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবিদ্বেষী গোষ্ঠীগুলো ব্যবহার করেছিল—তারা দাবি করত, শ্বেতাঙ্গদের ‘অধিকার আছে’ ভিন্ন জাতির মানুষের পাশের বাড়িতে না থাকার।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলেন, রিপাবলিকান নেতারা কেবল অবৈধ অভিবাসনের বিরোধী, বৈধ অভিবাসনের নয়। তবে জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো সেই ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাঁর কথাবার্তায় অনেকের চোখে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—বর্তমান রিপাবলিকান রাজনীতিতে “অভিবাসনবিরোধিতা” কেবল অবৈধ নয়, বরং অভিবাসনের পুরো কাঠামোকেই লক্ষ্য করছে।