এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বার ২০২৫, ০৬:০৬ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধমুক্ত অভিবাসী আটকের হার ২০০০ শতাংশ ছাড়িয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধমুক্ত অভিবাসী আটকের হার ২০০০ শতাংশ ছাড়িয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)–এর হাতে গ্রেপ্তারের পর ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা অপরাধমুক্ত অভিবাসীর সংখ্যা দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসন শুরুর পর থেকে ২,০০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। কংগ্রেসের নির্দেশে প্রকাশিত সরকারি তথ্য থেকে এই চিত্র উঠে এসেছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যাপক বহিষ্কার নীতির পরিধি স্পষ্ট করে।

তথ্য অনুযায়ী, ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত আইস সারা দেশে ৬৫,১৩৫ জনকে আটক রেখেছে—এটি সংস্থার ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর মধ্যে ৩০,৯৮৬ জনের কোনো অপরাধের অভিযোগ বা দণ্ড নেই; শুধুমাত্র অভিবাসন আইন ভঙ্গের দায়ে তারা আটক। অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্তদের সংখ্যা ১৭,১৭১ (২৬%) এবং অপরাধের অভিযোগ থাকা ব্যক্তির সংখ্যা ১৬,৯৭৮ (২৬%)।

আইস জানায়নি এই অভিযোগ বা দণ্ড কতটা গুরুতর। এগুলো বড় অপরাধ থেকে শুরু করে ছোটখাটো আইনলঙ্ঘন কিংবা কেবল অভিবাসন–সম্পর্কিত অপরাধও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন অনুযায়ী, দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থান করা বা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও থেকে যাওয়া (Visa Overstay) সরাসরি কোনো ‘ফৌজদারি অপরাধ’ (Criminal Offense) হিসেবে গণ্য হয় না এবং সাধারণত এটি সিভিল মামলার আওতায় পড়ে। তবে অবৈধ প্রবেশ প্রথমবারের মতো করলে তা ফেডারেল অপরাধ হিসেবে গণ্য হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা অভিবাসন–সংক্রান্ত সিভিল প্রক্রিয়ায় নিষ্পন্ন হয়।

তথ্য বলছে, তিন ধরনের আটক–শ্রেণিরই সংখ্যা বেড়েছে, তবে অপরাধমুক্ত অভিবাসী শ্রেণিতেই বৃদ্ধি সবচেয়ে তীব্র। আইস–এর আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আছে সংস্থাটির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া অভ্যন্তরীণ অভিবাসী এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি)–এর কাছ থেকে আনা আটক ব্যক্তিরাও। সিবিপির হাতে ধরা পড়া অনেকেই নতুন আগত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে তাদের অপরাধের ইতিহাস নেই।

১৬ নভেম্বর পর্যন্ত আইস নিজে ৫২,৫১০ জনকে এবং সিবিপি ১২,৬২৫ জনকে হস্তান্তর করেছে। শুধুমাত্র আইস কর্তৃক গ্রেপ্তারদের হিসাব ধরে দেখা যায়, জানুয়ারি ২৬ তারিখের ৯৪৫ থেকে নভেম্বর ১৬–তে অপরাধমুক্ত আটক ব্যক্তির সংখ্যা লাফিয়ে ২১,১৯৪–তে পৌঁছেছে—বৃদ্ধি ২,১৪৩ শতাংশ। একই সময়ে অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্তদের সংখ্যা বেড়েছে ৭৩ শতাংশ এবং অভিযোগ থাকা ব্যক্তির সংখ্যা বেড়েছে ২২৬ শতাংশ।

প্রথমবারের মতো অপরাধমুক্ত আটক ব্যক্তির সংখ্যা অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্তদের ছাড়িয়ে গেছে। সেপ্টেম্বর ২১ থেকে নভেম্বর ১৬–এর মধ্যে অপরাধমুক্তদের সংখ্যা এক–তৃতীয়াংশ বেড়েছে, বিপরীতে দণ্ডপ্রাপ্তদের সংখ্যা প্রায় একই আছে। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল যে তাদের মূল লক্ষ্য ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক অপরাধী’দের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অভিবাসন আইন ভঙ্গ ছাড়া অন্য কোনো অপরাধ না থাকলেও অনেক অভিবাসী অভিযানে ধরা পড়ছেন। প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যারাই অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার প্রমাণে ধরা পড়বেন, তাদেরই আটক করা হবে—তারা অভিযান–লক্ষ্যভুক্ত হোন বা না হোন। বাইডেন আমলে যেসব ‘আনুষঙ্গিক গ্রেপ্তার’ সীমিত করা হয়েছিল, সেগুলো ট্রাম্প প্রশাসন পুনর্বহাল করেছে।

আইন অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ যে কাউকে আটক করে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে, যদিও তাদের কেউ কেউ আশ্রয়সহ বিভিন্ন আইনি সুরক্ষার জন্য যোগ্য হতে পারেন।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মুখপাত্র ট্রিশা ম্যাকলফলিন দাবি করেছেন, তারা “সবচেয়ে বিপজ্জনক অপরাধী”—যেমন খুনি, ধর্ষক, গ্যাং–সদস্য ও সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করছে। তবে তিনি যে ৭০ শতাংশ আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা দণ্ড আছে বলে উল্লেখ করেছেন, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। তিনি আরও বলেন, অপরাধমুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্তদের কেউ কেউ দেশের বাইরে অপরাধের ইতিহাস থাকতে পারে বা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে, তবে সেই তথ্য সরকার প্রকাশ করেনি।