ভেনেজুয়েলায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার ভোরে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে মাদুরো দম্পতিকে আটক করে আকাশপথে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই সামরিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আমেরিকা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি জানিয়েছেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস, কোকেন আমদানি এবং বিপজ্জনক অস্ত্র রাখার ষড়যন্ত্রসহ বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। শীঘ্রই তাকে আমেরিকার আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এদিকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার জন্য একটি নতুন ভোরের সূচনা হিসেবে অভিহিত করা হলেও কারাকাস একে চরম সামরিক আগ্রাসন বলে নিন্দা জানিয়েছে।
বিশ্বনেতারা এই ঘটনায় দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কলম্বিয়া, কিউবা, মেক্সিকো এবং ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো একে লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন এবং সীমান্ত এলাকায় সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন। কিউবা এই ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া ও ইরান একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও একটি স্বাধীন দেশের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে নিন্দা জানিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পরিষ্কার করেছেন যে এই অভিযানে তার দেশ কোনোভাবেই জড়িত ছিল না। স্পেন ও জার্মানি পরিস্থিতির অবনতি রোধে আলোচনার ওপর জোর দিয়েছে। এশিয় দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়াও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়েছে। সব মিলিয়ে মাদুরোকে আটকের এই ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন অস্থিরতার জন্ম দিল।