এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫৩ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন সীমান্তে নতুন কড়াকড়ি: কানাডীয়দের ছবি তোলা বাধ্যতামূলক

মার্কিন সীমান্তে নতুন কড়াকড়ি: কানাডীয়দের ছবি তোলা বাধ্যতামূলক

আপনি যদি গত কয়েক বছরে অসংখ্যবার গাড়ি চালিয়ে কোনো দ্বিধা ছাড়াই আমেরিকা-কানাডা সীমান্ত পার হয়ে থাকেন, তবে আপনার আগামী সফরটি হতে যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতার। গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন প্রবিধান অনুযায়ী, এখন থেকে কানাডীয় নাগরিকদের স্থল সীমান্ত দিয়ে আমেরিকায় প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় বাধ্যতামূলকভাবে ছবি তুলতে হবে। এই পরিবর্তনটি মূলত সকল অ-মার্কিন ভ্রমণকারীদের জন্য প্রযোজ্য এবং এটি কানাডীয়দের জন্য একটি বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন। কারণ, এতদিন পর্যন্ত কানাডীয়রা স্থল সীমান্তে এই ধরনের বায়োমেট্রিক স্ক্রিনিং বা ছবি তোলার বাধ্যবাকতা থেকে অনেকাংশে মুক্ত ছিলেন। আগে যেখানে কেবল মৌলিক পরিচয়পত্র দেখিয়েই যাতায়াত করা যেত, এখন সেখানে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) এখন থেকে স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রপথের সকল প্রবেশ ও প্রস্থান পথে ভ্রমণকারীদের ছবি তোলার আইনি অধিকার লাভ করেছে। এই নতুন নিয়মের ফলে দীর্ঘদিনের বেশ কিছু ছাড় বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে এখন থেকে কূটনীতিক এবং সাধারণ কানাডীয় দর্শনার্থীরাও এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) মতে, এই পদক্ষেপটি সীমান্ত সুরক্ষা এবং পরিচয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়াকে আধুনিকীকরণের একটি অংশ। সিবিপি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, এই মাইলফলক প্রবিধানটি একটি ব্যাপক বায়োমেট্রিক এন্ট্রি ও এক্সিট প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করবে। এটি যেমন জাতীয় নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে, তেমনি বিদেশি দর্শন্তর্থীদের পরিচয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও নিখুঁত করবে।

যদিও যারা সড়কপথে নিয়মিত যাতায়াত করেন তাদের কাছে এটি নতুন মনে হতে পারে, কিন্তু যারা আকাশপথে ভ্রমণ করেন তাদের জন্য বায়োমেট্রিক স্ক্রিনিং খুব একটা অপরিচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক বছর ধরে বিমানবন্দরগুলোতে আন্তর্জাতিক আগমন এবং প্রস্থানের সময় বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে। ২০০২ সালে প্রথম বায়োমেট্রিক স্ক্রিনিং চালুর ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছিল এবং ২০০৪ সাল থেকে এটি ধাপে ধাপে বিমানবন্দরগুলোতে কার্যকর করা হয়। বর্তমানে ফেসিয়াল রিকগনিশন বা মুখমণ্ডল চেনার প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল, ক্রুজ বন্দর এবং পথচারী পারাপারের লেনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমান প্রবিধানটি কেবল সেই একই ব্যবস্থাকে স্থল সীমান্ত বা সড়কপথের যাতায়াতে বিস্তৃত করেছে, যাতে আকাশ, সমুদ্র এবং স্থলপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা যায়।

তবে এই নিয়মটি সবার জন্য সমান নয়। মার্কিন নাগরিকদের জন্য এই বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তারা চাইলে স্বেচ্ছায় এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন অথবা বিকল্প হিসেবে ম্যানুয়াল পাসপোর্ট পরিদর্শনের পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন। কানাডীয়দের জন্য সুখবর হলো, এই নতুন নিয়মের কারণে কোনো বাড়তি কাগজপত্র বা আগে থেকে নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। তবে এর অর্থ হলো, সীমান্ত পার হওয়ার সময় ক্যামেরা বা লেন্সের সামনে কয়েক সেকেন্ড অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হবে। বিশ্বজুড়ে বায়োমেট্রিক স্ক্রিনিং যখন একটি মানসম্মত পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, তখন আমেরিকার এই সিদ্ধান্তটি সংকেত দিচ্ছে যে—কানাডীয়দের জন্য ছবি ছাড়া অতি সহজে সীমান্ত পার হওয়ার যুগটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেল।

বিশ্লেষকদের অভিমত:

আমেরিকার এই নতুন সীমান্ত নীতি মূলত বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির একটি প্রযুক্তিগত সমাধান। কানাডা ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘতম বন্ধুত্বের সীমান্ত থাকলেও, পরিচয় জালিয়াতি রোধ এবং নজরদারি বৃদ্ধিতে বায়োমেট্রিক তথ্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। যদিও এটি সাধারণ ভ্রমণকারীদের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর বা সময়সাপেক্ষ হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি সীমান্ত ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্নে এই ধরনের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আধুনিক যুগে জাতীয় নিরাপত্তাকেই সবার উপরে স্থান দেওয়া হচ্ছে। কানাডীয়দের জন্য এটি একটি বড় মানসিক পরিবর্তন, কারণ তারা এতদিন আমেরিকার সাথে যাতায়াতে এক ধরনের বিশেষ সুবিধা ভোগ করে আসতেন যা এখন বিশ্বজনীন বায়োমেট্রিক সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।