তালুকদার রাসেল • প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৫ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এনসিপির বৈঠক, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এনসিপির বৈঠক, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা

 জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই পক্ষ বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এসময় মার্কিন প্রতিনিধি দলে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক সচিব জেমস স্টুয়ার্ট। অন্যদিকে এনসিপির প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দীন মোহাম্মদ এবং সদস্য মনিরা শারমিন ও নাভিদ নওরোজ শাহ।

বৈঠকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, এনসিপির রাজনৈতিক দর্শন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের গুরুত্ব নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।

এনসিপির নেতারা বৈঠকে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া বিভিন্ন প্রশ্ন ও উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরেন। জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার প্রতিনিধিদল চুক্তির বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেন এবং এটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানান। তাদের মতে, এই চুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে এবং উভয় দেশের জনগণ এর সুফল পাবে।

এছাড়া গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, গণভোটের রায়কে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে সরকার সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে, যা নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন রাজনৈতিক সংলাপ, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠক শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং গঠনমূলক সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।