মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের চলমান *প্রশাসনিক অচলাবস্থা* যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে এটি ইতিহাসের দীর্ঘতম হতে পারে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে অচলাবস্থা ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে, এবং এর কোনো সমাধান এখনো দৃষ্টিগোচর নয়।
রিপাবলিকান নেতা জনসন সোমবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, স্বাস্থ্যনীতি সংক্রান্ত ডেমোক্র্যাটদের দাবিগুলো প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তিনি কোনো সমঝোতায় যাবেন না। এই ইস্যুই বর্তমান অচলাবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
তিনি বলেন, “আমরা আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ প্রশাসনিক স্থবিরতার দিকে এগোচ্ছি।”
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই পরিস্থিতিকে সরকারি ব্যয় কমানো ও বিভিন্ন দপ্তরে ছাঁটাই কার্যকর করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। যদিও এসব পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা যদি তাদের স্বাস্থ্যসেবার দাবি থেকে না সরে, তবে তিনি “ডেমোক্র্যাট কর্মসূচি” কাটছাঁট করবেন।
এরই মধ্যে এই অচলাবস্থার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে। রবিবার স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশন ঘোষণা করে যে, তারা তাদের ২১টি জাদুঘর, গবেষণা কেন্দ্র ও ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল চিড়িয়াখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখবে। প্রতিষ্ঠানটি এর মোট বাজেটের ৬২ শতাংশই পায় ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে।
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ এই প্রশাসনিক স্থবিরতার জন্য প্রায় সমানভাবে ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেই দায়ী করছে।
ডেমোক্র্যাটরা দাবি করছে, ‘আফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’-এর আওতায় থাকা স্বাস্থ্যসেবা ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে হবে, যা লক্ষ লক্ষ আমেরিকান নাগরিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রিপাবলিকানদের বক্তব্য, সরকার পুনরায় চালু হওয়ার পর এই বিষয়টি আলোচনা করা যেতে পারে। তবে ডেমোক্র্যাটরা এতে আস্থাশীল নয়।
এর আগে এ বছর রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস একটি বিশাল কর ও ব্যয় সংক্রান্ত বিল পাস করে, যার ফলে প্রায় দেড় কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরকারি অচলাবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়ালেও এর প্রভাব গভীর। গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ হয়ে যায়, সরকারি কর্মচারীদের বেতন অনিশ্চিত হয় এবং জনজীবনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা গবেষণা ও উন্নয়ন তহবিল থেকে অব্যবহৃত অর্থ ব্যবহার করে সেনা সদস্যদের বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক ছাঁটাই কর্মসূচি এই অচলাবস্থার একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স সতর্ক করে বলেছেন, সামনে আরও “বেদনাদায়ক” কাটছাঁট আসছে, যদিও সরকারি কর্মচারীদের ইউনিয়ন ইতোমধ্যে এসব বরখাস্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স