যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত সুরক্ষায় কড়াকড়ি বাড়িয়ে আরও পাঁচটি দেশ ও ফিলিস্তিনিদের ওপর পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই নতুন বিধিমালা কার্যকর হবে। মূলত অভিবাসন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন দাবি করছে।
নতুন এই তালিকায় বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়ার নাগরিকদের পাশাপাশি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা পাসপোর্টধারীদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এছাড়া আগে থেকেই আংশিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা লাওস ও সিয়েরা লিওনকে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নাইজেরিয়া, তানজানিয়া ও জিম্বাবুয়েসহ আরও ১৫টি দেশের ওপর আংশিক বিধিমালা আরোপ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, বিদেশিদের তথ্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবেই এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভিসা ওভারস্টে বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে যাওয়ার উচ্চ হার, ত্রুটিপূর্ণ নাগরিক রেকর্ড, দুর্নীতি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং নির্বাসিত নাগরিকদের ফেরত নিতে অনীহার বিষয়গুলোকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। থ্যাঙ্কসগিভিং ছুটির সময় এক আফগান নাগরিকের গুলিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য আহত হওয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে এই কড়াকড়ি আরও বৃদ্ধি পায়।
ক্ষমতায় আসার পর এটি ট্রাম্পের তৃতীয়বারের মতো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। এর আগে ২০১৭ সালেও তিনি একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যা নিয়ে আইনি জটিলতা ও বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যদি তথ্য বিনিময় এবং পরিচয় শনাক্তকরণে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে পারে, তবেই এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। তবে স্থায়ী বাসিন্দা, বিদ্যমান ভিসাধারী, কূটনৈতিক এবং বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেটরা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন। বিশেষ ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনায় ছাড় দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।