ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী নির্বাচনে ব্যাপক ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং’ করেও শেষ পর্যন্ত তাকে পরাজিত করতে পারেনি। তবে বিজয়ের এই মুহূর্তেও তিনি কারচুপির অপচেষ্টাকে দেশের জন্য এক ‘অশুভ লক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজ শেষে শাহজাহানপুরে নিজ পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আব্বাস বলেন, “জনজোয়ারের কাছে অশুভ শক্তির ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ পর্যন্ত টেকেনি। তবে আমাদের অনেক ব্যালট অন্যায়ভাবে বাতিল করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
ঢাকা-৮ আসনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস ৫৯,৩৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪,১২৭ ভোট। ব্যবধান মাত্র ৫,২৩৯ ভোটের। এই ফলাফলে বিস্ময় প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস প্রশ্ন তোলেন, “যাদের কোনো জনভিত্তি বা ভোট নেই, তারা পর্দার অন্তরালে কারসাজি ছাড়া এত ভোট পেল কীভাবে? এটিই প্রমাণ করে নির্বাচনি মাঠে কী ধরনের সুকৌশলী খেলা হয়েছে।”
ভোট পুনর্গণনা প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল নির্বাচন কমিশনের। তারা যদি প্রয়োজন মনে করেন, তবে পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপির এই বিশাল বিজয়ে আনন্দিত হলেও নেতাকর্মীদের সংযত থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি বলেন, “বিজয় পরবর্তী সময়ে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা না করে। দেশ পুনর্গঠনে আমাদের ধৈর্য ধরে এগোতে হবে।” মির্জা আব্বাসের এই বক্তব্যের পর ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঢাকা-৮ আসনে বিজয়ের ব্যবধান কম হওয়া এবং মির্জা আব্বাসের মতো বর্ষীয়ান নেতার এমন কড়া অভিযোগ আগামীর সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নবগঠিত দলগুলোর ভোট প্রাপ্তির হার এবং বড় দলের নেতাদের অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ করা নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।