নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে একটি বিশেষ গোষ্ঠী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার বিকেলে নোয়াখালীর হাতিয়ায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ভোটারদের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে দেওয়া এই ভাষণে তিনি বলেন, কেবল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট পেপারে সিল মারলেই দায়িত্ব শেষ হবে না; বরং ভোট দেওয়ার পর ফলাফল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রেই অবস্থান করতে হবে। নিজেদের দেওয়া প্রতিটি ভোটের হিসাব কড়ায়-গন্ডায় বুঝে নিতে সাধারণ মানুষকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
হাতিয়ার নোয়াখালী-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাহাবুবের রহমান শামীমের সমর্থনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৫-১৬ বছর এদেশের মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। যারা এই দুঃশাসন কায়েম করেছিল, তারা আজ ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়েছে। তবে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করতে ১২ তারিখের নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আগামী ১২ জানুয়ারি নির্বাচনের দিনটি ঘিরে বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, মুসলমান ভাইয়েরা তাহাজ্জুদ ও ফজরের নামাজ আদায় করে খুব ভোরেই কেন্দ্রের সামনে লাইনে দাঁড়াবেন। অন্য ধর্মের ভাইবোনদেরও সাথে নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেন যে, অতীতের মতো ভোট চুরির সুযোগ যেন কেউ না পায়, সেজন্য ভোটারদের কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই একটি জবাবদিহিতামূলক সরকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
সমাবেশ চলাকালে স্থানীয় জনসাধারণের পক্ষ থেকে হাতিয়ার প্রধান সমস্যাগুলো তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরা হয়। নদীভাঙন, ব্লকবঁধের অভাব এবং জেগে ওঠা চরে ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি একটি তালিকা প্রদর্শন করেন। তিনি জানান, হাতিয়ার প্রতিটি সমস্যার কথা বিএনপির নীতিনির্ধারণী নথিতে আগে থেকেই লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা এবং ভূমিহীনদের খাস জমি বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তবে এই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
তারেক রহমান দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বা ভিশন সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি জানান, বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। কৃষকদের জন্য থাকবে ‘কৃষি কার্ড’, যা সার, বীজ ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহে শতভাগ সহায়তা নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া বেকার তরুণদের জন্য কারিগরি শিক্ষা ও ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রতিটি ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগের এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বিশুদ্ধ পানি ও আধুনিক শিক্ষার প্রসারে মাহাবুবের রহমান শামীমকে নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে হাতিয়াবাসীকে পরিবর্তনের সূচনা করার আহ্বান জানান তারেক রহমান।
আপনার জন্য কি এই সমাবেশের অন্য কোনো রাজনৈতিক দিক বা উন্নয়ন পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন? আমি চাইলে সেটিও বিশ্লেষণ করে দিতে পারি।